দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদিত নকশা না মেনে যেমন খুশি তেমন বানাও নীতিতে চলছিল চট্টগ্রাম নগরীর ভবন নির্মান৷ শুধু ভবনের চারপাশে নির্ধারিত নুন্যতম জায়গা না ছেড়ে ভবন নির্মানের সংখ্যা ৯০%৷ এছাড়া নকশায় দেখানো পার্কিং এর জায়গায় বাণিজ্যিক বা অন্য কাজে ব্যবহার প্রায় প্রতিটি বহুতল ভবনেই দেখা যায়৷
যেহেতু চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এর অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের যোগসাজশে এসব বেশীর ভাগ ভবনের নকশা অনুমোদন হয়ে থাকে ফলে নকশা না মেনে ভবন নির্মান করলেও এসবের বিরুদ্ধে টু শব্দটিও করেননা সিডিএ৷ অবশ্য কালে ভাদ্রে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে কিছুটা নড়েচড়ে বসে সিডিএ৷ দুই একটি ভবনে হাতুড়ির বাড়ি দিয়ে দায়ও সারেন৷ এসব অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মানের ফলে দিন দিন চট্টগ্রাম নগরীর পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থায় বিরুপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে৷ যানজট এখন বড় বড় সড়ক ছাপিয়ে অলিগলি অব্দি পৌছে গেছে৷
তবে এবার খোদ সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন নিজেই নেমেছেন এসব ভবন পরিদর্শনে। চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসনে বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বেসরকারী নামীদামী স্কুল গুলোর পার্কিং ব্যবস্থা ও অনুমোদিত নকশা যাচাই করতে গিয়ে একাধিক অনিয়মের চিত্র পেয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।
গত কয়েকদিন যাবৎ সিডিএ চেয়ারম্যান বেশ কয়েকটি ভবন পরিদর্শন করেছেন৷ সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে নগরের বেশ কয়েকটি হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও কয়েকটি স্কুল পরিদর্শন করে সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।
এ সময় কাতালগঞ্জ এলাকায় ডেল্টা হসপিটাল, পার্কভিউ হাসপাতাল ও ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিকের পার্কিং ব্যবস্থাপনা এবং ভবনের ব্যবহার নিয়ে সবচেয়ে বেশি অসঙ্গতি ধরা পড়ে পরিদর্শন টিমের নজরে। জানা গেছে, পার্কভিউ হাসপাতালে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ড্রপিং বে ২০ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এর প্রস্থ প্রায় ১৫ ফুট।
এর ফলে রোগীবাহী যানবাহনের প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় যানজটের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এছাড়া রোগীদের গাড়ি রাখার জন্য নির্ধারিত পার্কিং এলাকায় সিলিন্ডার ও বিভিন্ন অফিস সামগ্রী সংরক্ষণ করতে দেখা যায়।
অন্যদিকে ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিকে পরিদর্শনের সময় কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত নকশা পর্যন্ত উপস্থাপন করতে পারেনি। সিডিএ জানায়, ভবনটি আবাসিক প্লটের মধ্যে নির্মিত এবং হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনের তথ্যও দেখানো হয়নি। এছাড়া এই ভবনের পার্কিং ব্যবস্থাপনায় কোনো নির্দেশনা বা চিহ্ন নেই। সুউচ্চ এই ভবনটিতে মাত্র দুই থেকে তিনটি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেই স্থানেও সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন সামগ্রী রাখা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে পার্কিং এর জন্য নির্ধারিত ফ্লোরকে তারা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করছেন৷
একই পরিদর্শনে ডক্টরস হাসপাতাল, চট্টগ্রাম গ্রামার স্কুল (সিজিএস, চট্টেশ্বরী ক্যাম্পাস) এবং চট্টগ্রাম আইডিয়াল হাই স্কুলেও পার্কিং সংকট, ড্রপিং বে না থাকা এবং অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয়ের বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
চট্টেশ্বরী সড়কের স্থায়ী বাসিন্দা আজম বিডি২৪লাইভ কে বলেন, সিজিএস স্কুলটিতে শিক্ষার্থী ভর্তির অন্যতম শর্তই নাকি থাকে অভিভাবকের গাড়ী থাকতে হবে৷ ফলে প্রায় প্রতিটি শিক্ষার্থীকে স্কুলে পৌছে দিতে ও বাসায় ফিরিয়ে নিয়ে বিপুল সংখ্যক প্রাইভেট গাড়ির চট্টেশ্বরী ও সার্সন রোড়ে লাইন ধরে ভীড় করে৷ শুধুমাত্র এই একটি স্কুলের জন্য পুরো এলাকার সড়ক গুলো প্রাইভেট কার দখল করে স্থায়ী যানজট সৃষ্টি করে রাখে৷" শহরের উচ্চবিত্ত ও প্রভাবশালীদের সন্তানেরা এই স্কুলে পড়াশোনা করার কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কথা বলা যায় না বলে জানান একাধিক বাসিন্দা৷
পরিদর্শন শেষে সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, সব প্রতিষ্ঠানকে এক মাস সময় দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে যানজট সহনীয় পর্যায়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর