রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নানকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালীতে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ। এর আগে বুধবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নানকে ওএসডি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদকে নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়ম ও রোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নানকে ঘিরে সমালোচনা ছিল। এর মধ্যে সম্প্রতি রাজবাড়ী শহরের বড়পুল এলাকার আরোগ্য ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর সোমা আক্তার (২৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা আলোচনায় আসে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নের কোনাইল গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী সোমা আক্তার গত ২২ সেপ্টেম্বর সন্তান প্রসবের জন্য আরোগ্য ক্লিনিকে ভর্তি হন। সেখানে ডা. শেখ মো. আব্দুল হান্নান তাঁর সিজারিয়ান অপারেশন করেন। অ্যানেসথেসিয়া দেন ডা. জিয়াউল আহসান। অপারেশনের পর সোমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দাবি, সোমার হৃদ্যন্ত্রের ভালভে আগে থেকেই জটিলতা ছিল।
অন্যদিকে অপারেশনকারী চিকিৎসক ডা. এস এম এ হান্নানের দাবি, সিজারিয়ান অপারেশন স্বাভাবিকভাবেই সম্পন্ন হয়েছিল। পরে রোগীর শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে আইসিইউ সাপোর্টের প্রয়োজন হওয়ায় তাঁকে ফরিদপুরে রেফার করা হয়।
ঘটনাটি তদন্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের গাইনি ও অবস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহানা পারভীন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল-১ শাখার সহকারী পরিচালক ডা. মো. মাহমুদুর রহমান এবং সদস্যসচিব হিসেবে রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ রয়েছেন। কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে গত ২৫ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন নিহত সোমার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি সোমার দুই দিনের নবজাতক শিশুকে কোলে নেন এবং পরিবারের কাছে শিশুটির জন্য নতুন পোশাক, উপহার ও ডায়াপার পৌঁছে দেন। এ সময় তিনি জানান, চিকিৎসাগত কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওএসডি করার বিষয়ে ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নানের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর