ইরান-সংকটের প্রেক্ষাপটে বাব এল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশকে নিয়ে একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। নতুন এ জোটের প্রধান কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সৌদি নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, জোটের প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয়, অন্যান্য সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোটের সঙ্গে যোগাযোগ এবং যৌথ অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন রিয়ার অ্যাডমিরাল আল-শেহরি।
গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইয়েমেনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি লোহিত সাগর, বাব এল-মান্দেব প্রণালি এবং এডেন উপসাগর হয়ে ভারত মহাসাগরে সংযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথে অবরোধ ঘোষণা করে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে হরমুজ প্রণালি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এর পরেই কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালির। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পর তেহরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো বিকল্প হিসেবে লোহিত সাগরের রুট ব্যবহার শুরু করে।
সৌদি আরবের জন্য বাব এল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ দেশটির অন্যতম প্রধান সমুদ্রবন্দর ইয়ানাবু এ অঞ্চলের নিকটবর্তী। জুলাইয়ের শেষ দিকে হুথিদের ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয় ইয়ানাবু বন্দর। এরপরই রিয়াদ একটি যৌথ সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ নেয়।
এ লক্ষ্যে সৌদি আরবের মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে প্রায় ৬০টি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এর মধ্যে ১৪টি দেশ জোটে যোগ দিতে সম্মতি জানায়। সদস্য দেশগুলো হলো সৌদি আরব, বাংলাদেশ, বাহরাইন, কোমোরোস, জিবুতি, মিসর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক এবং ইয়েমেন।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরও কয়েকটি দেশ এই জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্যও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ পশ্চিমমুখী রপ্তানি বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য পরিবহন লোহিত সাগর ও এর সংলগ্ন সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর