রবিবার (৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর সাথে চট্টগ্রামের বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের সাথে মত বিনিময় সভার ডেলিগেট কার্ড না পাওয়ায় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলের অনেক নেতারা যখন ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন তখন দলীয় অনুমোদন ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সাথে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সভায় অংশ নিচ্ছিলেন ছাত্রদের একাধিক নেতা৷ আর সেই অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের চার নেতার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে।
পদ স্থগিত হওয়া নেতারা হলেন—চট্টগ্রাম মহসিন কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন সারজিল, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব ওমর ফারুক, চকবাজার থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদ হোসেন এবং কোতোয়ালি থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন নাবিল।
রবিবার (৯ আগস্ট) রাতে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম ও সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম তুহিনের অনুমোদনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আল মামুন সাদ্দামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে চার নেতার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে।
তবে নিজের পদ স্থগিতের সিদ্ধান্তের বিষয়ে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব ওমর ফারুক ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি একজন সম্মুখ সারির জুলাইযোদ্ধা। আমাকে মূলত একজন জুলাইযোদ্ধা হিসেবে ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য দাওয়াত কার্ড দেওয়া হয়েছিল।’
কেন পদ স্থগীত করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতকালের সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কারণেই আমার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, অন্যদিক বিবেচনা করলে আমি চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব হিসেবেও অনুষ্ঠানের কার্ড পাওয়ার অধিকার রাখি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আল মামুন সাদ্দাম গণমাধ্যমকে বলেন, মহসিন কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিবের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার অভিযোগে নোট পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, রবিবারের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাংগঠনিক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়কসহ নির্ধারিত নেতাদের অংশগ্রহণের অনুমতি ছিল। তাদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক আমন্ত্রণপত্রও বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা বিভিন্নভাবে কার্ড সংগ্রহ করে ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বিষয়টিকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করে চার নেতার পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, রবিবার (৯ আগস্ট) রাতে চট্টগ্রাম নগরের হোটেল র্যাডিসন ব্লু বে ভিউতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে একটি সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের প্রায় ৬০০ এর বেশী নেতাকর্মী অংশ নেন। তবে এই অনুষ্ঠানের ডেলিগেট কার্ড না পাওয়ায় যুবদল স্বেচ্ছাসেবক দলের অনেক শীর্ষ নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন৷
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর