শেরপুর সদর উপজেলার রামেরচর হাই স্কুলে এসএসসি পরীক্ষায় গণহারে শিক্ষার্থী ফেল করায় ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষকদের তালাবদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষকদের উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর রামেরচর হাই স্কুল থেকে তিন বিভাগে মোট ৭৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের মধ্যে মাত্র ২১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। ফেল করেছে ৫৭ জন। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। আর বিজ্ঞান বিভাগে ৪৩ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছে।
ফল প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। একপর্যায়ে তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কার্যালয়ের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে দেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হয় না। অনেক শিক্ষক সময়মতো বিদ্যালয়ে আসেন না। শিক্ষকদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হচ্ছে।
খবর পেয়ে শেরপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। আলোচনার একপর্যায়ে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে লিখিত অঙ্গীকার দেওয়া হলে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে তাদের তালাবদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করা হয়।
লিখিত অঙ্গীকারে শিক্ষকরা জানান, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের বোর্ড চ্যালেঞ্জের ফি এবং ২০২৭ সালে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণের খরচ তারা নিজেদের অর্থে বহন করবেন।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, ‘রামেরচর হাই স্কুলে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি শান্ত করে শিক্ষকদের উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উভয়পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছেছে।’
শেরপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চান মিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি জেনেছি। তবে এখন পর্যন্ত স্কুল কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর