ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজে নতুন হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাবে বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ সেন্ট বা ০.৮১ শতাংশ বেড়ে ৮৯.৬৩ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৭১ সেন্ট বা ০.৮৫ শতাংশ বেড়ে ৮৩.৯১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার উভয় বেঞ্চমার্কের দামই এক ডলারের বেশি বেড়েছিল। এতে ৩১ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় তেলের দাম। সোমবারও শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা কমে যাওয়ার মধ্যে তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা পৃথকভাবে দুটি নৌপথে জাহাজে হামলার খবর দিয়েছে।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ইরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। ইরানের শর্তের মধ্যে দেশটির জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংঘাতের অবসানও রয়েছে।
রয়টার্সের জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ছয়টি জাহাজ চলাচল করেছে। অথচ তার আগের ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১১টি। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন এই নৌপথ দিয়ে গড়ে ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ল অপরিশোধিত তেলের মজুত
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত বাড়ার তথ্যও বাজারে এসেছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্য উদ্ধৃত করে বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ৭ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৯১ লাখ ব্যারেল বেড়েছে।
অন্যদিকে একই সময়ে দেশটিতে গ্যাসোলিনের মজুত প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল এবং ডিস্টিলেটের মজুত ৫ লাখ ৯৬ হাজার ব্যারেল কমেছে।
অপরিশোধিত তেলের মজুতের এই বৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি। সরকারি তথ্যেও যদি বিষয়টি নিশ্চিত হয়, তাহলে সরবরাহ সংকট নিয়ে বাজারের উদ্বেগ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় আনুষ্ঠানিক মজুতের তথ্য প্রকাশ করার কথা রয়েছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। ইআইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে দৈনিক প্রায় ৬ লাখ ব্যারেলের ঘাটতি ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের দ্রুত সমাধান না হলে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর