মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না। যে দলেরই হোক, যত প্রভাবশালীই হোক মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।তাদের শিকড় উপড়ে ফেলা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি।
এছাড়াও তিনি বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না।একটি পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও জোরদার করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ডিআইজি বলেন,মাদক ব্যবসায়ীরা কোন দলের এটা বিবেচ্য নয়। মাদক ব্যবসায়ী মানেই অপরাধী। তাদের রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান কিংবা প্রভাব কোনো কিছুই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ডিআইজি বলেন, মাদকের সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত তাদের পাশাপাশি এর পেছনে থাকা অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদেরও চিহ্নিত করতে হবে।
ছোটখাটো বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করলেই মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। মাদকের সরবরাহব্যবস্থা, অর্থের উৎস এবং যারা বিভিন্নভাবে মাদক ব্যবসাকে সহযোগিতা করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার হাতিয়ার হবে না। অপরাধের সঙ্গে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা যাবে না।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে নোয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার এম. এন. নাসিরুদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুন অর রশীদ,নোয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতি সভাপতি এডভোকেট এবিএম জাকারিয়া,নোয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আইনজীবী শাহাদৎ হোসেন,জেলার সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, আইনজীবী ও চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর