রোদ, ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ধুলাবালির মধ্যে রাস্তার পাশে বসে পাদুকায় কালি করা বা ছেঁড়া জুতা সেলাই করে বংশ পরম্পরায় জীবন-জীবিকা নির্বাহ করলেও কেউ কখন খোঁজ খবর রাখেনা এমন এক সম্প্রদায় হচ্ছে রবিদাস।
অবশেষে ইতোমধ্যে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হেসেবে পরিচিতি লাভ করা জয়পুরহাট জেলা পরিষদ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। রবিদাস সম্প্রদায়ের কর্মজীবীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও পেশাগত সহযোগিতায় ১১৬ জন সুফলভোগীর মাঝে টুলবক্স, ছাতা এবং জুতা পরিষ্কার ও মেরামতের প্রয়োজনীয় উপকরণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জয়পুরহাট জেলা পরিষদের খঞ্জনপুরস্থ হলরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সুফলভোগীদের হাতে এসব টুলবক্স তুলে দেন জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মুশফিকুর রহমান।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মনজুরে মওলা পলাশসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রবিদাস সম্প্রদায়ের ১১৬ জন জুতা তৈরি ও মেরামতকারী পেশাজীবীর মাঝে কাজের টুলবক্স, রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচার ছাতা ও জুতা মেরামতের আনুষঙ্গিক উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।
উপকরণ পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জয়পুরহাট পৌর এলাকার বিজয় রবিদাস ও শিল্পা রবিদাস বলেন, "বর্ষা আর কড়া রোদের মধ্যে রাস্তায় বসে কাজ করতে খুব কষ্ট হতো। আজ ছাতা ও নতুন টুলবক্স পেয়ে আমাদের কাজের সুবিধা হলো।
এতে আমরা পরিবার নিয়ে একটু ভালোভাবে চলতে পারব। " উপকারভোগী মন্টু রবিদাস বলেন, "আমাদের পুরনো বাক্সে সরঞ্জাম রাখা ও বহন করা কঠিন ছিল। জেলা পরিষদের এই উদ্যোগে প্রয়োজনীয় নতুন সামগ্রী পেয়ে আমাদের কাজের জন্য অনেক সুবিধা হবে । "
একই অনুভূতি জানিয়ে সিতারাম রবিদাস বলেন, আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষদের কাজের প্রতি সম্মান জানিয়ে এভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমরা জেলা পরিষদকে ধন্যবাদ জানাই।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ রানা প্রধান বলেন, সমাজে অবহেলিত ও প্রান্তিক পেশাজীবীদের স্বাবলম্বী করা এবং তাদের কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতেই জেলা পরিষদ এই সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর