মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করেছে দুটি প্রতিষ্ঠান। ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া পোস্ট প্রকাশের আগেই অর্থের বিনিময়ে সেগুলো দেখার সুযোগ দেয়ার পরিকল্পনা বন্ধের দাবিতে স্থানীয় সময় বুধবার (১২ আগস্ট) মামলাটি দায়ের করা হয়। বাদীপক্ষের অভিযোগ, এই সেবা চালু হলে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত হবে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করা ওই প্রতিষ্ঠান হচ্ছে দ্য ইন্টারসেপ্ট এবং অলাভজনক সংগঠন ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন। ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেবার মাধ্যমে তার পোস্ট প্রকাশের আগেই অর্থের বিনিময়ে সেগুলো দেখার সুযোগ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে তারা।
বুধবার আদালতে জমা দেয়া নথিতে বাদীপক্ষ বলেছে, সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক এই সেবা চালু হলে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত হবে। মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, ‘এই পরিকল্পনা অত্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত’। এতে আরও বলা হয়, ‘বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে’ এমন সরকারি তথ্য যারা অর্থ দিতে সক্ষম ও ইচ্ছুক, তাদের কাছে ব্যক্তিগত কোম্পানির মাধ্যমে সরবরাহ করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ ট্রাম্পের রয়েছে।
মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অধিকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীপক্ষের আরও দাবি, এই পরিকল্পনার ফলে প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য ঘোষণাগুলোতে সবার সমান প্রবেশাধিকারের অধিকার লঙ্ঘিত হবে।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, এই সাবস্ক্রিপশন সেবা সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হতে পারে। বাদীপক্ষের মতে, সরকারি তথ্য পাওয়ার জন্য সরকার ইচ্ছেমতো অর্থ নির্ধারণ করতে পারে না।
মামলায় ট্রাম্পের পাশাপাশি সরকারি দায়িত্বে থাকা হোয়াইট হাউসের সহযোগী নাটালি হার্প এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ড্যানিয়েল স্ক্যাভিনোর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার মূল বিষয় ‘ট্রুথ এপিআই’। গত জুলাইয়ে এই সেবার ঘোষণা দেয়া হয় এবং ১ আগস্ট এটি চালু হয়।
ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের এই সাবস্ক্রিপশন সেবার মাধ্যমে ট্রাম্প এবং প্রতিষ্ঠানটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে থাকা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের পোস্ট তাৎক্ষণিকভাবে দেখার সুযোগ দেয়া হয়। এর জন্য গ্রাহকদের মাসে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত দিতে হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১০ আগস্টের একটি আয়-সংক্রান্ত ফোন কলে জানানো হয়, এরই মধ্যে ১০ জনের বেশি গ্রাহক এই সেবায় সাবস্ক্রাইব করেছেন।
সমালোচকেরা বলছেন, ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে এমন নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা দেন, যা অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন মন্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তার এসব মন্তব্য বৈশ্বিক তেলের বাজারেও প্রভাব ফেলেছে।
ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপে সবচেয়ে বড় অংশীদারিত্ব ট্রাম্পেরই। বর্তমানে এই অংশীদারিত্বের মূল্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে এটি একটি ট্রাস্টে স্থানান্তরের সময় মূল্য ছিল প্রায় ৪০০ কোটি ডলার।
দ্য ইন্টারসেপ্টের প্রধান সম্পাদক বেন মুসিগ বলেন, ‘ট্রাম্প এমন সরকারি তথ্য ব্যক্তিগত মালিকানায় নিয়ে নিজের সম্পদ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন, যে তথ্য বিক্রি করার কোনও অধিকার তার নেই। আমরা এটি হতে দেব না।’
ট্রাম্প মিডিয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও যোগাযোগ এরই মধ্যে ‘অসংখ্য প্ল্যাটফর্ম ও সংবাদমাধ্যমের’ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এসবের অনেকগুলোতেই সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক এপিআই সেবা রয়েছে বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখনও কোনও মন্তব্য করেনি। মামলাটি নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর