বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) একটি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডারের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বিটিসিএলের চুক্তি বাতিল করে হুয়াওয়েকে কালো তালিকাভুক্ত করতে সুপারিশ করেছে দুদকের অনুসন্ধানকারী দল। অথচ সেই হুয়াওয়ের টাকায় চীন সফরে গেছেন রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী।
টেলিটকের দাপ্তরিক আদেশ অনুযায়ী, ‘গ্রামাঞ্চলে টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ফাইভ-জি সেবার জন্য নেটওয়ার্ক প্রস্তুতি’ প্রকল্পের আওতায় ফ্যাক্টরি টেস্টে অংশ নিতে ১০ থেকে ১৬ আগস্ট চীনে অবস্থান করছেন তিনি। সফরের বিমানভাড়া, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য ব্যয় হুয়াওয়ে বহন করছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে কোনো সরবরাহকারী বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন নিষিদ্ধ থাকার নীতির সঙ্গে এ সফরের সামঞ্জস্য নিয়েই মূলত প্রশ্ন উঠেছে।
বিটিসিএল-এর ‘ফাইভ-জি উপযোগীকরণে অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন’ প্রকল্প নিয়ে দুদকের অনুসন্ধানে বড় ধরনের অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিটিসিএল-এর সম্ভাব্য ব্যান্ডউইথ চাহিদা প্রায় ২৬ টেরাবাইট হলেও প্রকল্পে ১২৬ টেরাবাইট সক্ষমতার সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সরঞ্জাম কেনার কারণে রাষ্ট্রের প্রায় ৩২৬ কোটি টাকা অপচয়ের অভিযোগ করেছে দুদক।
এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞদের মতামত ও আপত্তি উপেক্ষা, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ফ্যাক্টরি প্রোডাকশন অ্যাকসেপ্টেন্স টেস্ট শেষ হওয়ার আগেই পণ্য দেশে পাঠানো এবং সরঞ্জাম বন্দরে পৌঁছানোর পর অর্থ ছাড়ের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ার গোপন তথ্য সংগ্রহ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করেছে দুদক। এসব কর্মকাণ্ড পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ অবস্থায় একই প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে টেলিটকের এমডির চীন সফরকে কেন্দ্র করে সরকারি ক্রয় ও প্রশাসনিক নীতিমালা অনুসরণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে সরবরাহকারী বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের বিষয়ে সরকারের নীতিমালা রয়েছে। কোনো প্রকল্পের সরঞ্জাম পরিদর্শন বা কারখানা পরিদর্শনের প্রয়োজন থাকলেও সফরের অর্থায়ন নিয়ে নির্ধারিত বিধিবিধান অনুসরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। হুয়াওয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারি ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় তাদের অর্থায়নে টেলিটকের শীর্ষ কর্মকর্তার বিদেশ সফর কতটা নীতিসংগত-সে প্রশ্ন উঠেছে।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর সর্বশেষ খবর