কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কংশনগর এলাকায় গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ কেটে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রানা বিল্ডার্সের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে রাতের আঁধারে তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে কাজের মান ও বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ১৩০ কিলোমিটার অংশে বিভিন্ন উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে কাজের ধীরগতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে বুড়িচং উপজেলার কংশনগর মেতিরাপ জামে মসজিদ ও ইউনুস অটো রাইস মিল সংলগ্নসহ কয়েকটি স্থানে সড়ক নির্মাণের জন্য গোমতী নদীর বেড়িবাঁধের অংশবিশেষ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে কেটে ফেলা বাঁধের অংশ দিয়ে পানি প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে আশপাশের বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও জনসাধারণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি রাতের বেলায় তড়িঘড়ি করে নির্মাণকাজ পরিচালনা করায় কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন শ্রমিক নেতা আলাউদ্দিন ভূইয়া বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কে ভাঙন ও গর্ত সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাতের আঁধারে কাজ করা এবং বেড়িবাঁধ কাটার ঘটনায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন, কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তাদের দাবি, গোমতী নদীর বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সড়ক নির্মাণকাজ পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর মান পরীক্ষা, কাজের পরিমাপ এবং প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না—তা সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে কুমিল্লা জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এ সড়কের কাজের ঠিকাদার কে, তা আমি জানি না। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রানা বিল্ডার্সের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর