তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় মাসে নির্বাচনী ইশতেহার ও ঘোষিত কর্মসূচির অধিকাংশ অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দাবি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শতভাগ, আবার কোথাও ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।
বিএনপির নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো ও ৩১ দফা কর্মসূচি অনুযায়ী সরকারের কতটা লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী জানান, বাস্তবায়নের বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই লিখিত আকারে প্রকাশ করা হবে। সেখানে প্রতিটি অঙ্গীকার কত শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে, তার বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে।
তিনি বলেন, ছয় মাসের মধ্যেই নির্বাচনী অঙ্গীকার ও ম্যানিফেস্টোর মোটামুটি সবগুলো লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। তবে সব ক্ষেত্রে শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও কোথাও ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ এবং কোথাও শতভাগ অগ্রগতি হয়েছে।
রিজভী ছয় মাসকে সরকারের প্রস্তুতিপর্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রশাসনকে নতুনভাবে গুছিয়ে নেওয়া এবং কর্মসূচিগুলো কার্যকর করার জন্য সরকারের একটি প্রস্তুতিমূলক সময় প্রয়োজন হয়। এ কারণে প্রথম ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময়কে তিনি ‘রানআপ’ বা প্রস্তুতির সময় হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনকে সংগঠিত করে কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী ছয় মাসে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি আরও জোরালোভাবে বাস্তবায়িত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিবের পদত্যাগের বিষয়টিও উঠে আসে। এর আগে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় ও মন্ত্রণালয়ের পদে বহাল থাকবেন।
এ বিষয়ে রিজভী বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর বক্তব্যের কোনো বিরোধ নেই। তিনি জানান, দলের নির্দেশনা অনুযায়ীই তিনি আগের বক্তব্য দিয়েছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে দলীয় বা সরকারি পদ থেকে পদত্যাগ করা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব হওয়ায় এবং দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর নৈতিক কারণেই তিনি দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান রিজভী।
পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দল যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, সেভাবেই তা জানানো হবে। দলের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ যথাসময়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর