আসন্ন ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নামে দুটি এবং বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে একটি মনোনয়নপত্র রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় শেষ হওয়ার পর ইসির নিজ দপ্তরের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
একই প্রার্থীর নামে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব বলেন, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় বিষয়টি দেখা হবে। কোনো কারণে প্রথম মনোনয়নপত্র বাতিল হলে দ্বিতীয়টি যাচাই করা হবে।
তবে অলি আহমদের নামে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদের নামে দুটি ফরম জমা দেওয়া হয়েছে। কোনো একটি ফরমে তথ্যগত ভুল থাকলে বিকল্প ফরমটি যাতে ব্যবহার করা যায়, সে কারণেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন নির্বাচনে এমনটি করা হয়ে থাকে বলেও জানান তিনি।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হবে। এ সময় সংসদ সচিবালয়ের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। প্রার্থীদের প্রস্তাবক ও সমর্থকদের স্বাক্ষরও যাচাই করা হবে।
তফসিল অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। যাচাই-বাছাই শেষে একাধিক প্রার্থী বৈধ থাকলে আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা। ফলে প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর সংসদ সদস্যদের ভোটের হিসাবই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এর আগে গত ২৪ জুলাই ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি ছিলেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি। তার পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের উদ্যোগ নেয় নির্বাচন কমিশন। এর ধারাবাহিকতায় গত ৬ আগস্ট ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি এবং জামায়াত-সমর্থিত ১১ দলীয় জোট পৃথক প্রার্থী দিয়েছে। ফলে উভয় পক্ষের মনোনয়ন বৈধ হলে রাষ্ট্রপতি পদে সরাসরি ভোটের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর