ফলাফল ভালো হলেও টাঙ্গাইলের সখীপুরে একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসএসসি পাসের পর মিষ্টি খেয়ে আনন্দ-উল্লাস করেনি। মানবতাবোধ আর বন্ধুর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার জন্য তারা তা করেনি। মিষ্টি কেনার টাকা নিয়ে ছোট ছেলেমেয়েরা তাই সহপাঠীর ক্যানসার আক্রান্ত মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে গেছে অকুণ্ঠ চিত্তে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) মিষ্টি কেনার জন্য জমানো টাকা ক্যানসার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার জন্য তুলে দিল উপজেলার কালিদাস গ্রামের কলতান বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থীরা। মায়ের প্রাণ বাঁচাতে নিজেদের স্বল্প সামর্থ্য নিয়ে তাদের এই এগিয়ে আসা আবারও প্রমাণ করেছে, আমাদের সন্তানেরা দুর্বার, তাদের ভালোবাসার শক্তি অপরিসীম।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের কয়েক দিন আগে কলতান বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের মায়ের শরীরে ক্যানসারের জীবাণু শনাক্ত হয়। এ রোগের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল নাঈমের পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়ে। সংবাদটি কানে যেতেই নাঈমের সহপাঠীরা সিদ্ধান্ত নেয়—এবার এসএসসি পাসের আনন্দে মিষ্টিমুখ না করে অসুস্থ মায়ের মুখে হাসি ফোটাবে। পরে আজ তারা নাঈমের দাদা আব্দুস সাত্তার সিকদারের হাতে ২০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছে। তাদের সঙ্গে ওই বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও সহযোগিতা করেছে।
এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থী ইমরান, জাহিদ ও আপন জানায়, পাস করার আনন্দে মিষ্টিমুখ করার চেয়ে সহপাঠীর মায়ের পাশে দাঁড়াতে পেরেই বেশি ভালো লাগছে তাঁদের।
কলতান বিদ্যানিকেতনের ভোকেশনাল শাখা থেকে এ বছর এসএসসিতে জিপিএ ৪.৮২ পাওয়া নাঈম সিকদার জানায়, ‘আমার মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই। সেই সঙ্গে আমার মায়ের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমার সহপাঠী, শিক্ষক এবং অন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’
বিদ্যালয়ের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বাদল বলেন, ‘এ বছর পাস করা শিক্ষার্থীরা ২০ হাজার টাকা আর অন্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা ২০ হাজার টাকা দিয়েছে। মোট ৪০ হাজার টাকা নাঈমের মায়ের চিকিৎসার জন্য দেওয়া হয়েছে। ছোট ছেলেমেয়েদের এমন মানবিক উদ্যোগ দেখে আমি সত্যি আপ্লুত হয়েছি।’
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর