শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে মুন্নি আক্তার সাগরিকা (২০) নামে এক গৃহবধূ মৃত্যুর ঘটনায় দানা বাঁধছে রহস্য। স্বামীর নির্যাতনে সইতে না পেরে এটি আত্মহত্যা নাকি স্বামী কর্তৃক হত্যাকাণ্ড তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধূূম্রজাল। তবে পরিবারের অভিযোগ সত্ত্বেও অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করতে সাগরিকার বাবার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের কথা।
পরিবারের অভিযোগ ও সরেজমিনে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হালুয়াঘাট উপজেলার চর গোরকপুর গ্রামের দরিদ্র পিতা মমতাজ হোসেনের কন্যা মুুন্নি আক্তার সাগরিকা গার্মেন্টে কাজ করতেন। একই গার্মেন্টে কাজ করতেন নালিতাবাড়ী উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের নদীরপাড় এলাকার বাসিন্দা মৃত শামছুল হকের ছেলে মনির হোসেন ওরফে আবু সামা (৩৫)।
গার্মেন্টে কাজের সূত্র ধরে দু’জনের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক বছরখানেক আগে গড়ায় বিয়েতে। প্রথমে সাগরিকার পরিবার এ বিয়ে মেনে না নিলেও গত কয়েক মাস আগে মেনে নেন তারা। সাগরিকা ও আবু সামা দম্পতি চলে আসেন ফকিরপাড়ায়। এখানে আসার পর সাগরিকা জানতে পারেন, স্বামী আবু সামা এর আগে তিনটি বিয়ে করেছে এবং পারিবারিক নানা কলহে সেসব সংসার টেকেনি। সতীনের একটি ছেলেও পান সাগরিকা। এরই মাঝে মাদকাসক্ত আবু সামা শ্বশুর বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা আনতে চাপ প্রয়োগ করলে শুরু হয় পারিবারিক কলহ।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত পৌণে বারোটার দিকে আবু সামা তার শ্বশুরকে ফোন করে প্রথমে স্ট্রোক করে সাগরিকার মৃত্যুর খবর জানায়। পরে মাঝরাতে পুলিশ নিয়ে সাগরিকার পরিবারের লোকজন আবু সামার বাড়িতে হাজির হন। ততক্ষণে আবু সামা নিজেই স্ত্রী সাগরিকার নিথর দেহ ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে মেঝেতে রেখে দেয়। পুলিশ সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
এদিকে, পুলিশ এবং স্বজনেরা পৌছার আগেই সাগরিকার মরদেহ নামিয়ে ফেলা এবং আত্মহত্যার বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় সাগরিকার বাবা মমতাজ কন্যাকে হত্যার অভিযোগ তুলেন। পুলিশ আবু সামাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিয়ে কম্পিউটার করা একটি অপমৃত্যু সংক্রান্ত আবেদনে মমতাজের স্বাক্ষর নিয়ে অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করেন।
আবু সামার প্রতিবেশিরা একে হত্যাকাণ্ড বলে সংশয় প্রকাশ করে জানান, এটি আত্মহত্যা হয়ে থাকলেও তা আবু সামার কারণেই হতে পারে। আবু সামা একজন মাদকাসক্ত এবং এর আগেও পরপর তিনটি বিয়ে করলেও তার আচার-আচরণে একজন স্ত্রীও টেকেনি। মৃত্যুর একদিন আগেও তাদের মাঝে ঝগড়া হয়েছে বলে জানান প্রতিবেশিরা।
সাগরিকার স্বজনেরা জানান, পারিবারিক কলহের কারণে আবু সামা তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছিল। এ বিষয়ে আমরা পুলিশকে মৌখিকভাবে জানানোর পরও অপমৃত্যুর মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে একে আত্মহত্যা বলে মনে হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসার পর ত্যার আলামত পাওয়া গেলে তা হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়া হবে।
অপরদিকে, পারিবারিক কলহের কারণে আত্মহত্যার ঘটনা হয়ে থাকলেও আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলা হিসেবে কেন নেওয়া হলো না, এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শরিফ জানান, যেহেতু অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়ে গেছে। তাই এখন আর সুযোগ নেই। তবে ময়নাতদন্তে হত্যার প্রমাণ পেলে হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়ার কথা জানান তিনি।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর