এক সময় সাঁতার না-জানা সেই আতিকুর রহমানই এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃত সাঁতারু ও প্রশিক্ষক। সাঁতারু হিসেবে দীর্ঘ কর্মজীবনে সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি। তার প্রশিক্ষণেও তৈরি হচ্ছে অসংখ্য সাঁতারু। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি ৩৩০টি পদক অর্জন করেছেন। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক পদক পাঁচটি।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের এডহক কমিটির সদস্য মনোনীত হন আতিকুর রহমান। নাটোর জেলার মধ্যে তিনিই প্রথম এ দায়িত্ব পেলেন। আতিক নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর সদরের খলিফাপাড়া মহল্লার মরহুম আমিরুল ইসলামের ছেলে। আত্রাই ও নন্দকুঁজা নদীর তীরে বেড়ে উঠলেও সাঁতার জানতেন না তিনি। সাঁতারে তার হাতেখড়ি সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর।
জানা যায়, ১৯৯৭ সালে ১৭ বছর বয়সে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন আতিক। এরপর বগুড়া সেনানিবাসের ২৬ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামসুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে আনুষ্ঠানিকভাবে সাঁতার প্রশিক্ষণ শুরু করেন। কঠোর পরিশ্রম, অনুশীলন ও অধ্যবসায়ের ফলে মাত্র দুই বছরের মধ্যেই ১৯৯৯ সালে বগুড়া সেনানিবাস অঞ্চলের সেরা সাঁতারু হয়ে ওঠেন তিনি।
এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সদস্যকে নিয়ে দল গঠন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ সাঁতারু তৈরির কাজ শুরু করেন। ২০০১ সালে সেনাবাহিনীর আন্তঃডিভিশন সাঁতার প্রতিযোগিতায় বগুড়া সেনাবাহিনী চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর টানা ছয় বছর বগুড়া অঞ্চলে সাঁতার প্রতিযোগিতায় সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হন আতিকুর রহমান।
দীর্ঘ কর্মজীবনে সেনাবাহিনীর হয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশ নিয়ে অর্জন করেছেন শত শত পদক। কোচের দায়িত্ব পালনকালে ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৬ সালে অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর আন্তঃইউনিট, আন্তঃডিভিশন ও আন্তঃবাহিনী প্রতিযোগিতাসহ জাতীয় পর্যায়ে মোট ৩২৫টি পদক অর্জন করেন তিনি। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রয়েছে পাঁচটি পদক।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে ২০০৪ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সাফ গেমস, ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতা, ২০০৮ সালের ইন্দো-বাংলা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশ নিয়ে পদক অর্জন করেন।
আতিকুর রহমান বলেন, প্রায় ২০ বছর সেনাবাহিনীতে চাকরি করেছি। পরিশ্রম, মেধা ও কৌশল কাজে লাগিয়ে সাঁতারে ভালো করার চেষ্টা করেছি। নিজের পাশাপাশি সেনাবাহিনীতে দক্ষ সাঁতারু তৈরির কাজ করেছি। অবসরে যাওয়ার পরও বিভিন্ন ইউনিটে কোচ হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দায়িত্ব পালন করছি।
তবে তার কাজ শুধু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নয়। নিজ এলাকার কিশোর-তরুণদের খেলাধুলায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে কাজ করছেন তিনি। গুরুদাসপুরে গড়ে তুলেছেন ‘ভোরের ডাক ফুটবল একাডেমি’। এই সংগঠনের মাধ্যমে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সাঁতার ও ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
আতিকের স্বপ্ন এখন গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান কিশোর-তরুণদের নিয়ে। তার মতে, গ্রামাঞ্চলে অসংখ্য প্রতিভা রয়েছে। কিন্তু সুযোগ ও যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাবে তাদের অনেকেই হারিয়ে যায়। তাই লুকিয়ে থাকা প্রতিভা খুঁজে বের করে সাঁতার ও ফুটবলে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
স্পোর্টস এর সর্বশেষ খবর