মানুষ মারা গেলে তার স্মৃতি থেকে যায় পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের মনে। কিন্তু সেই স্মৃতি যদি থেকে যায় ফেসবুকেও? প্রতিদিন আমরা ফেসবুকে ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিগত মুহূর্ত ও নানা স্মৃতি জমা করি। কিন্তু ব্যবহারকারী মারা যাওয়ার পর সেই অ্যাকাউন্টের কী হয়—এ প্রশ্নের উত্তর অনেকেরই জানা নেই।
ফেসবুকের রয়েছে এ জন্য আলাদা ব্যবস্থা। কোনো ব্যবহারকারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর তার অ্যাকাউন্ট মেমোরিয়ালাইজড (Memorialized) করা যেতে পারে। অর্থাৎ অ্যাকাউন্টটি মুছে না গিয়ে মৃত ব্যক্তির স্মৃতি হিসেবে থেকে যায়।
নামের পাশে যুক্ত হয় ‘Remembering’
মেমোরিয়ালাইজড হলে ব্যক্তির প্রোফাইলে তার নামের আগে “Remembering” শব্দটি যুক্ত হতে পারে। ফলে অন্যরা বুঝতে পারেন, এটি একজন প্রয়াত ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট। সেখানে আগের ছবি, পোস্ট ও অন্যান্য তথ্য থেকে যেতে পারে। বন্ধু ও স্বজনেরা ওই প্রোফাইলে স্মৃতিচারণও করতে পারেন। তবে মৃত ব্যক্তির মতো করে অন্য কেউ অ্যাকাউন্টে লগইন করে ব্যবহার করতে পারেন না।
ফেসবুকে রয়েছে Legacy Contact নামের একটি ব্যবস্থা। ব্যবহারকারী জীবিত থাকতেই একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে লিগ্যাসি কনট্যাক্ট হিসেবে নির্বাচন করতে পারেন। ব্যবহারকারীর মৃত্যুর পর ওই ব্যক্তি নির্দিষ্ট কিছু কাজ করতে পারেন। যেমন—প্রোফাইলের পিন করা পোস্ট পরিচালনা করা, নতুন বন্ধুদের অনুরোধে সাড়া দেওয়া এবং প্রোফাইলের কিছু তথ্য নিয়ন্ত্রণ করা।
তবে লিগ্যাসি কনট্যাক্ট মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে লগইন করতে বা ব্যক্তিগত মেসেজ পড়তে পারেন না।
কেউ চাইলে জীবিত থাকতেই ফেসবুকে এমন নির্দেশনা দিতে পারেন যে মৃত্যুর পর তার অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হবে। এ ক্ষেত্রে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি সরিয়ে দিতে পারে। ফলে প্রোফাইল, পোস্ট, ছবি ও অন্যান্য অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত তথ্য আর ফেসবুকে থাকবে না।
অর্থাৎ মৃত্যুর পর ফেসবুক অ্যাকাউন্টের দুটি বড় পরিণতি হতে পারে—স্মৃতি হিসেবে রেখে দেওয়া অথবা সম্পূর্ণ মুছে ফেলা।
মেমোরিয়ালাইজড হলে ব্যক্তির প্রোফাইলে পরিবারের সদস্য বা উত্তরাধিকারী হলেও অন্য কারও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে তার পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রবেশ করা স্বাভাবিকভাবে অনুমোদিত নয়। ফেসবুকের ব্যবস্থা হলো, মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টকে মেমোরিয়ালাইজ করা বা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেটি সরিয়ে দেওয়া। ব্যক্তিগত বার্তা ও গোপনীয় তথ্যের বিষয়েও আলাদা সুরক্ষা রয়েছে।
কোনো ব্যবহারকারীর মৃত্যুর খবর সাধারণত পরিবার, বন্ধু বা অন্য কেউ ফেসবুককে জানাতে পারেন। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি মেমোরিয়ালাইজ করার ব্যবস্থা নিতে পারে। এ কারণে শুধু দীর্ঘদিন ফেসবুকে না থাকা মানেই অ্যাকাউন্টটি মেমোরিয়ালাইজড হয়ে যাবে—বিষয়টি এমন নয়।
এক অর্থে বলা যায়, ডিজিটাল জীবনেরও কি তাহলে ‘উত্তরাধিকার’ আছে। আগে মানুষের মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পদ বলতে বোঝানো হতো বাড়ি, জমি, টাকা, ছবি বা চিঠি। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল স্মৃতি। ফেসবুকের ছবি, ভিডিও, পোস্ট ও মানুষের সঙ্গে তৈরি সম্পর্কগুলোও অনেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি হয়ে উঠেছে। তাই জীবিত থাকতেই নিজের ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট মৃত্যুর পর কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রাখছে ফেসবুক।
আপনার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে আপনার ফেসবুক আইডি অদৃশ্য হয়ে যাবে—বিষয়টি এমন নয়।
আপনি চাইলে অ্যাকাউন্টটি স্মৃতি হিসেবে রেখে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন। আবার চাইলে মৃত্যুর পর সেটি সম্পূর্ণ মুছে ফেলার সিদ্ধান্তও আগে থেকেই নির্ধারণ করা যায়। অর্থাৎ বাস্তব জীবনের মতোই এখন মানুষের ডিজিটাল জীবনও মৃত্যুর পর কিছুটা সময় বেঁচে থাকতে পারে। পার্থক্য শুধু এটুকুই—সেটি আর আপনি ব্যবহার করবেন না, ব্যবহার করবে আপনার রেখে যাওয়া স্মৃতি।
তথ্যসূত্র: Meta/Facebook Help Center-এর Memorialization ও Legacy Contact-সংক্রান্ত নীতিমালা।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর