• ঢাকা
  • ঢাকা, বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৩ মিনিট পূর্বে
প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিডি২৪লাইভ ডট কম
প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:১৩ দুপুর

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ‘বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে’: সিইসি

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ এবং দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন—সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনের দিকে বিশ্ববাসীও তাকিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।

এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, "আমরা কনফিডেন্ট যে, ইনশাআল্লাহ আমরা একটা সুন্দর নির্বাচন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন—এটা বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে। তো বাংলাদেশের নির্বাচন, যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হচ্ছে, বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে।... ...আমি বললাম বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে, বললাম কেন—আমাদের একটা অভ্যুত্থান হয়ে গেল, বিষয় ২৪ জুলাই একজন রাষ্ট্রপতি মেয়াদ শেষের আগে পদত্যাগ করলেন, পদত্যাগ করলেন।''

সিইসি বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। সুতরাং এখানে কে রাষ্ট্রপতি হবেন, এখানে এটা একটা সবার একটু আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে। তো রিজাইন করার পর তো... এটা যদি রিজাইন না করতেন, উনি নরমাল টার্মিং শেষ করে যেতেন, ন্যাচারাল কোর্সে যেতেন, তাহলে হয়তো মানুষ আগ্রহ, খবরের দেখাতো না।

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, “আপনারা তো জানেন, আমাদের বিপ্লব-উত্তর যে, গণঅভ্যুত্থান-উত্তর যে দেশের যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আপনারা দেখতেছেন।”

সাংবাদিকদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, “আপনারা সমাজের বিবেক, আপনারা সমাজের আয়না বলতে সবাই তো বলে যে আপনারা নাকি আয়না। আপনাদের মাধ্যমে সমাজকে দেখতে হয়। হয়তো আমরাও আপনাদের মাধ্যমে দেখি তো।

“কারণ যেমনে পারি, যে টিভির স্ক্রলটা হলেও দেখি, এটা আপনাদের মাধ্যমে দেখার চেষ্টা করি যে কী হইতেছে, কোথায় কী হইতেছে।”

১৯৯১ সালের পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইতিহাস তুলে ধরে সিইসি বলেন, ১৯৯১ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে আর এমন নির্বাচন হয়নি।

সিইসি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটা হয়েছিল... প্রথম হয়েছিল ১৯৯১ সালে। আপনারা সবাই জানেন এটা। এরপরে কিন্তু আমাদের গত স্বাধীনতার পর থেকে পর্যন্ত আর তখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি, একটা হয়েছে।

তিনি বলেন, একটু ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি, একটু এখানে একটু শর্ট আছে। কারণ আমাদের লোকজনও অভ্যস্ত না তো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে অভ্যস্ত না। সংসদ সচিবালয় যেখানে ডিপলি ইনভলভ থাকেন, উনারাও এই ধরনের কার্যক্রম করে অভ্যস্ত না। কিছুটা ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি, কিছুটা শর্টেজ আছে।”

তিনি আরও বলেন, “তারপরও আমরা একদম যত রকমের সম্ভব এক্সারসাইজ সম্ভব এবং দরকার, সেটা আমরা করেছি। আমাদের সিনিয়র সেক্রেটারি সাহেবের নেতৃত্বে আমাদের এনারা করেছেন এবং তাতে করে যাতে করে আমাদের পুরা প্রক্রিয়াটার মধ্যে কোনো গ্যাপ না হয়, সেই ব্যবস্থাটা আমরা করেছি।”

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনায় ১৯৯১ সালের আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে জানিয়ে সিইসি বলেন, সংসদ অধিবেশনে থাকলে এবং অধিবেশনে না থাকলে নির্বাচন পরিচালনার ব্যবস্থায় ভিন্নতা রয়েছে।

বর্তমানে সংসদ অধিবেশনে না থাকলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নিয়মিত অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন নেই। শুধু ভোটের জন্য বৈঠক আহ্বান করলেই হয় বলে জানান তিনি।

“নরমালি পার্লামেন্ট সেশনটা ডাকেন হলো আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি। উনি পার্লামেন্টের সেশন ডাকেন। কিন্তু এই একটা সেশন যদি রাষ্ট্রপতির নির্বাচন হয় এবং পার্লামেন্ট যদি সেশনে না থাকে, তাইলে সিসি এই বৈঠকটা আহ্বান করবেন।”

সিইসি জানান, নির্বাচনী বৈঠক আহ্বানের গেজেট ১১ আগস্ট প্রকাশ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী নির্বাচনের অন্তত সাত দিন আগে এ গেজেট প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

তিন মনোনয়ন, দুই প্রার্থী

১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে দুটি এবং বিএনপির পক্ষ থেকে একটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল বলে জানান সিইসি। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম।

তিনি বলেন, প্রস্তাবক ও সমর্থকদের স্বাক্ষর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় ব্যবহৃত রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।

ভোটার ৩৪৯, ভোট ২০ আগস্ট

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা সংসদের ‘বিভক্তি নম্বর’ অনুযায়ী করা হয়েছে বলে জানান সিইসি। একটি সংসদীয় আসন শূন্য থাকায় বিভক্তি নম্বরের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তনের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

চট্টগ্রাম-৪ আসনে আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের কারণে ওই আসন শূন্য থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান।

সিইসি বলেন, “আমাদের ভোটার সংখ্যা হচ্ছে... ৩৪৯।”

আগামী ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোট হবে।

সিইসি বলেন, “এখন আমি কন্ডাক্ট করব, পরিচালনা করব। এখানে আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি একজন ভোটার, বর্তমান আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভোটার, তারপরে আমাদের মাননীয় স্পিকার ভোটার, তারপরে আমাদের মাননীয় দলের নেতাও ভোটার আর সবগুলো এমপি ভোটার আছে।

“ভেরি হাই প্রোফাইল একটা ইলেকশন, ভেরি হাই প্রোফাইল ইলেকশন।”

তিনি বলেন, “আইনের মধ্যে একটা রিকোয়ারমেন্ট আছে, স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে করতে হয়। এই সিসি যিনি নির্বাচনী কর্তা থাকবেন, উনি স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে, উনার সঙ্গে পরামর্শ করে তারিখগুলা ঠিক করতে হয়।”

স্পিকারের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা এবং তার সম্মতি নিয়েই তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি আইনের বাধ্যবাধকতা।

সংসদ সচিবালয়ের সহযোগিতা

ভোট গ্রহণের প্রস্তুতিতে সংসদ সচিবালয়ের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সহায়ক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের যারা অধিবেশন চলাকালে ফ্লোরে দায়িত্ব পালন করেন, তাদেরও সহযোগিতা নেওয়া হবে।

স্পিকার, হুইপ, চিফ হুইপ ও বিরোধী দলের চিফ হুইপের সহযোগিতার কথাও তুলে ধরে সিইসি বলেন, “সুতরাং পার্লামেন্ট সেক্রেটারিয়েট থেকে আমরা সার্বিক সহযোগিতা পাচ্ছি। উই রিয়েলি থ্যাঙ্কফুল টু দেম।”

ভোট ও গণনায় সরাসরি সম্প্রচার

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোট দেওয়ার সময় সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান সিইসি।

তিনি বলেন, সম্ভবত বিটিভির মাধ্যমে ভোটের শুরুতে এ অংশ সরাসরি দেখানো হবে। ভোট গ্রহণ চলাকালে সম্প্রচার বন্ধ থাকার পর বিকাল ৫টায় ভোট গণনা শুরু হলে আবার সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে।

ভোটার সংসদ সদস্যরা ভোট দেওয়ার পরও গণনার সময় সংসদ ভবনে উপস্থিত থাকতে পারবেন বলে জানান তিনি।

“উনারা ভোটার এবং গণনার সময় থাকতে পারবেন। ইটস ভেরি ট্রান্সপারেন্ট মেথড, ভেরি ট্রান্সপারেন্ট মেথড। সুতরাং এখানে কোনো কারও কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।”

ভোটের পরই ফল

ভোট গ্রহণ শেষে তাৎক্ষণিকভাবে ভোট গণনা শুরু হবে এবং সেখানেই নির্বাচনী কর্তা হিসেবে ফল ঘোষণা করবেন বলে জানান সিইসি।

তিনি বলেন, কতটি ব্যালট ছাপানো হয়েছে, কতটি ব্যবহার হয়েছে, কতটি অব্যবহৃত রয়েছে, কতটি বাতিল হয়েছে এবং প্রার্থীরা কে কত ভোট পেয়েছেন—সব বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে।

“যিনি বিজয়ী হবেন, যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট, মেজরিটি ভোট পাবেন, তিনি তো বিজয়ী হবেন। তার নামটা ঘোষণা করে দেব।”

এরপর নির্বাচনী ফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রচারণায় বিধিনিষেধ

ভোটের দিন জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে কোনো প্রচার-প্রচারণা করা যাবে না বলে জানান সিইসি।

তবে সংসদ ভবনের বাইরে প্রচারণার বিষয়ে তার আইনে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই বলে তিনি জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, “ভোটের দিন ওখানে হাউসের মধ্যে কোনো প্রচার-প্রচার করতে পারবে না।”

নির্বাচনী ব্যয় ‘সাবস্ট্যানশিয়াল’ নয়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের ব্যয় নিয়ে প্রশ্নে সিইসি বলেন, এ নির্বাচনে বড় ধরনের অতিরিক্ত খরচ দেখছেন না তিনি।

ব্যালট ছাপানো ও কাগজপত্র-স্টেশনারির মতো কিছু খরচ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত ব্যয় তেমন নেই বলে জানান তিনি।

“অনেক পত্রপত্রিকায় তো মনে হচ্ছে যেন আমরা কোটি কোটি টাকা খরচ করতেছি, সেরকম মনে হচ্ছে। কিন্তু আসলে সেরকম কিছু না।”

তবে সংসদ ভবনে বৈঠক আয়োজনের বিদ্যুৎ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণসহ অন্যান্য ব্যয় সংসদ সচিবালয়ের বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাচন আয়োজনের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে দাবি করে সিইসি বলেন, প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সব সম্ভাব্য দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রস্তুতির মধ্যে ইনশাআল্লাহ কোনো ঘাটতি নাই, কোনোই ঘাটতি নাই। এবং যেহেতু যারা স্টেকহোল্ডার আছে এখানে, যারা ইনভলভ থাকবে, সবার সহযোগিতা পাচ্ছি, তাতে কোনো ইনশাআল্লাহ আমাদের কোনো অসুবিধা হবে বলে আমরা মনে করি না।

তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে যে আপনাদেরকে ব্রিফ করার একটা সুযোগ পেলাম, এটাও আমার জন্য একটা, বলব, যেটা ভাগ্যের ব্যাপার। আই অলসো ফিল যে এটা একটা আমার জন্য একটা ভাগ্যের ব্যাপার।

“আপনাদের জন্য ভাগ্য এই জন্য, আপনারা দেখতেছেন যে এরকম একটা ঘটনা ঘটতেছে বাংলাদেশে, এই ধরনের একটা ঘটনা ঘটতেছে।”

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]