কুমিল্লার হোমনায় আয়েশা আক্তার নামে সাত বছরের এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং উদ্ধারের সময় তার পরনে কোনো কাপড় না থাকায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এটি হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফন করায় এলাকাবাসীর মনে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন।গত সোমবার (১৭ আগস্ট) উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের চুনারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আয়েশা ওই গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. জাকির হোসেনের মেয়ে।
স্থানীয় ও পরিবার সুত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশে দোকানের কাছে খেলাধুলা করছিল আয়েশা। দীর্ঘ সময় পার হলেও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে বিকেল চারটার দিকে দোকানের পেছনের ঝোপঝাড়ের নিচে পায়ের পাতা সমান পানির মধ্যে শিশুটিকে উলঙ্গ ও গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শিশুটির মা জানান, মেয়েকে না পেয়ে তারা দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে ঝোপঝাড়ের নিচে মেয়েকে উলঙ্গ অবস্থায় গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় দেখেন। তার দাবি, শিশুটির মুখের ভেতর, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আয়েশা খান জানান, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তাই তিনি হোমনা থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানান তিনি। এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শিশুটির পরনে জিন্সের প্যান্ট ছিল। কিন্তু লাশ উদ্ধারের সময় তার পরনে কোনো কাপড় ছিল না এবং শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা সন্দেহ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ শিশুটিকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। নিহত শিশুর বাবা মো. জাকির হোসেন বলেন, দোকানের পেছনের ঝোপঝাড়ের নিচ থেকে তার মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। কে বা কারা আমার মেয়েকে ফেলে রেখেছে তা আমি জানি না। আমি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী এবং এ ঘটনায় আমার কোনো অভিযোগ নেই। শিশুটির কাকা বলেন, আমার ভাতিজিকে উলঙ্গ ও গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে কেউ হত্যা করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাতিজির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, মৃত শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর