কলেরার ঝুঁকিতে থাকা কিশোরগঞ্জের তিন উপজেলা করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইলে এক বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষকে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়া হবে।
আগামী ২২ আগস্ট থেকে প্রথম ডোজ দেওয়ার মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হবে। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে।
তিন উপজেলায় মোট ৭ লাখ ২৫ হাজার ১৩৮ জনকে টিকা খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে করিমগঞ্জে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮১, হোসেনপুরে ২ লাখ ৭ হাজার ১৪১ এবং তাড়াইলে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫১৬ জনকে টিকা দেয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন (ওসিভি) ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর সমন্বয় ও অবহিতকরণ সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, প্রথম ডোজ ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর এবং দ্বিতীয় ডোজ ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেয়া হবে। সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টিকা কার্যক্রম চলবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত দিনগুলোতে স্কুলে টিকা দেওয়া হবে। অন্য দিনগুলোতে সব বয়সী মানুষকে টিকার আওতায় আনা হবে।
আগামী ২২ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। কিশোরগঞ্জ-১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম এই টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এ সময় জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনী কার্যক্রমের জন্য করিমগঞ্জে চর দেহঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিক ও জ্ঞান সিঁড়ি স্কুল, হোসেনপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং তাড়াইলে দারুল হুদা কাসেমুল উলুম মাদ্রাসা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, টিকা নিতে হলে আগে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর দেওয়া কার্ডটি পরবর্তী সময়ে হেলথ কার্ড হিসেবে বিবেচিত হবে। গর্ভবতী নারীরা এ টিকার আওতায় থাকবেন না।
তিন উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে তিনটি করে টিম টিকা কার্যক্রমে কাজ করবে। করিমগঞ্জের ১১টি ইউনিয়নের ৩৩টি, হোসেনপুরের ছয়টি ইউনিয়নের ১৮টি এবং তাড়াইলের সাতটি ইউনিয়নের ২১টি ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. আজিজুল হক তানজিল এবং ইউনিসেফের ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর হোসেন মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। টিকা কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ইউনিসেফের ইপিআই বিশেষজ্ঞ ডা. তরিকুল ইসলাম।
সভায় টিকা কার্যক্রম সফল করতে সংবাদমাধ্যম, ধর্মীয় নেতা, ইমাম-মুয়াজ্জিন, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা: মোস্তারী কাদেরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী, সিভিল সার্জন ডা. মো: নাজমুল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: ইশতিয়াক ইমন, কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো: আল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনও, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর