• ঢাকা
  • ঢাকা, শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৪০ সেকেন্ড পূর্বে
মোঃ শাকিল শেখ
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (সাভার ও ধামরাই)
প্রকাশিত : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৫৮ দুপুর

আশুলিয়ায় ১৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দুইজনকে পিটিয়ে জখম

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

সাভারের আশুলিয়ায় ১৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দুই ব্যক্তির ওপর হামলা, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। হামলায় মো. নুরু মিয়া (৫৭) ও তার ভাগ্নে মো. জুয়েল (৩৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় নুরু মিয়া বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. শফিউল আলম সোহাগ।

অভিযোগে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জমি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন- ঢাকার আশুলিয়ার বড়ওয়ালিয়া এলাকার মৃত মোখলেছুর রহমানের ছেলে মো. সোহাগ (৩০), মো. শাকিল আহম্মেদ (৩৭), একই এলাকার মো. রহিম উদ্দিনের ছেলে মো. রবিন সিকদার (৩০), মো. নাজমুল হাসান ওরফে নাজিম (৪০), মৃত রইজ উদ্দিনের ছেলে মো. নেদু মিয়া (৫৫), পানধোয়া এলাকার মৃত নুর ইসলামের ছেলে মো. রনি (৪৫) এবং আল মামুন আজিজের ছেলে মো. রানা (৩৭)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের বড় ওয়ালিয়া মৌজার আরএস ১৭৭৪ নম্বর দাগের ১০৬ শতাংশ জমির মধ্যে ২২ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। নুরু মিয়ার দাবি, আব্দুল মান্নান, আব্দুর রহমান ও আব্দুল আহাদের সঙ্গে ক্রয়সূত্রে তিনি ওই জমির মালিক এবং দীর্ঘদিন ধরে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন।

তবে কিছুদিন ধরে অভিযুক্তরা ওই জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় এক মাস ধরে তার কাছে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নুরু মিয়া তার ভাগ্নে জুয়েলকে সঙ্গে নিয়ে বড় ওয়ালিয়ায় নিজেদের জমি দেখতে যান। এ সময় সোহাগ, শাকিল, রবিন, নাজিম, নেদু, রনি, রানাসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন লোহার রড, লাঠি, রামদা, হাতুড়ি ও জিআই পাইপসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে সোহাগ নুরু মিয়ার কাছে পুনরায় ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এসময় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা নুরু মিয়া ও তার ভাগ্নে জুয়েলের ওপর হামলা চালান।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শাকিল লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। রবিন হাতুড়ি দিয়ে জুয়েলের বাম চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। নেদু মিয়া জিআই পাইপ দিয়ে নুরু মিয়ার দুই হাতের কবজিতে আঘাত করেন এবং রনি জুয়েলকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন। পরে অন্যরাও তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এছাড়াও হামলার সময় নুরু মিয়ার সঙ্গে থাকা নগদ এক লাখ টাকা নাজিম জোরপূর্বক নিয়ে যান।

একপর্যায়ে আহতদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে থাকলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় ভবিষ্যতে ওই জমিতে গেলে কিংবা দাবিকৃত ১৫ লাখ টাকা না দিলে নুরু মিয়া ও তার ভাগ্নেকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা নুরু মিয়া ও জুয়েলকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী নুরু মিয়া বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। তারা দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ও আমার ভাগ্নেকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন তারা আর কোনো নিরীহ মানুষের ওপর এ ধরনের নির্যাতন চালাতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, অভিযুক্তদের জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে রয়েছেন। এমন কোনো অপকর্ম নেই, যার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে ওঠেনি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানাই।

এদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার জাতীয় স্মৃতিসৌধ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. শফিউল আলম সোহাগ বলেন, চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]