“নৌযান শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি” এ স্লোগানকে সামনে রেখে নৌ পরিবহন খাতকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও তথ্যভিত্তিক করতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয় এ শুমারী।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়নাধীন "নৌযানের ডাটাবেইজ তৈরি ও নৌযান ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’ কার্যক্রম পরিদর্শন এবং নৌযান শুমারির সুফল অবহিতকরণ সম্পর্কিত বিষয়ে রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুর ২ টায় পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মোঃ রাজিব আহসান সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এসময় তিনি জেলেদের জন্য একটি লাইট হাউজ স্থাপন, নদীতে নৌযানের অবাধ চলাচলে জন্য প্রয়োজনীয় ড্রেজিং করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সহ আর্টিশনাল ট্রলিং বোট বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়াও জেলেদের অবকাশকালীন সরকারি বরাদ্দের প্রণোদনা যেন সময়মত পৌঁছে দেওয়া হয় সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ করেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় তিনি জনগণ ও স্থানীয় জেলেদের দাবি বাস্তবায়নে আস্বস্ত করেন যে, জেলেদের নিরাপদে ঘাটে ফিরে আসার জন্য খাপছাড়াভাঙ্গা নদী মোহনা ও আন্ধারমানিক নদী এবং সাগর মোহনা পরিদর্শন করেন।
মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ঘাটে বাঁধা একটি নৌযানে আরোহন করে, ঘাটে থাকা সকল নৌযান মালিক, শ্রমিক ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে নৌযান শুমারিতে অন্তর্ভুক্তির সুফল সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকারের শুমারি কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হলে একদিকে যেমন মালিক-শ্রমিকগণ সরকারি সহায্য-সহযোগিতা পাবে অপরদিকে বিদেশী সহযোগিতা পেতেও সহায়ক হবে।
নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযান খাত সম্পর্কে একটি নির্ভরযোগ্য, হালনাগাদ ও পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যানভিত্তিক চিত্র পাওয়া যাবে। এর ফলে নৌযানের নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও কার্যকর করা, নৌনিরাপত্তা জোরদার করা, নৌপথ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পাওয়া সহজ হবে।
তিনি বলেন, এ শুমারি সফলভাবে সম্পন্ন হলে স্থানীয় নৌযান মালিক, শ্রমিক, জেলেরাই এর প্রধান সুফল ভোগ করবেন। প্রকল্প বাস্তবায়ীত হলে নৌযান শুমারীসহ নৌযানের অন্যান্য সকল তথ্যসমূহ দেশের যেকোন প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে। এতে মেরিটাইম সেক্টরে হয়রানী কমবে, মামলা হ্রাস পাবে। ডাটাবেইজ ব্যবহার করে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার মান উন্নয়ন করে নৌ-পথে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। মাছ ধরার নিষিদ্ধ সময়ে আপনারা এই লিষ্ট এ নাম থাকলে সহজেই সরকারি সহায়তা পাবেন। নিজের ট্রলারের মালিকানা দাবী, ক্ষতিপুরন চাওয়া, আইনী সাহায্য অর্থাৎ সরকারী যত ধরনের পাওনা তা পাওয়া যাবে। শুমারীর তথ্য দিয়ে নিজের নৌযান নিজের নামে সহজেই রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। রেজিস্ট্রশন ফি কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। হয়রানিবিহীন, সহজ এবং কম খরচে নিজের মালিকানা নিতে পারবেন। এ ব্যাপারে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সকলকে সহযোগিতার আহবান জানান। তিনি উক্ত ফিশিং বোটে সাধারণ জেলেদের সাথে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন এবং খাবার শেষে বোটে চড়ে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সংক্রান্ত নদী ও সাগরের মোহনা পরিদর্শন করেন। এ সময়ে তাঁর সঙ্গে ছিলেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোঃ শফিউল বারী, পায়রা বন্দরের মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ার) কমডোর, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের চীফ ইঞ্জিনিয়ার ও শিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক কমান্ডার সাইফুল আহমাদ, বরিশাল অঞ্চলের ইঞ্জিনিয়ার এন্ড শিপ সার্ভেয়ার মোঃ সিরাজুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএ’র স্থানীয় প্রকৌশলী কর্মকর্তা, স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বিবিএস’র বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী সকল ইঞ্জিনচালিত নৌযানের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ এবং একটি সমন্বিত ডাটাবেইজ প্রণয়নের লক্ষ্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যৌথভাবে এ শুমারি পরিচালনা করবে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক লিস্টিং অপারেশনে ২,৪৪,৮০৮ টি নৌযানের তথ্য সংগ্রহ হয়েছে।
গত ২০ আগস্ট থেকে শুরু করে ২৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত দেশব্যাপী নৌযান শুমারি পরিচালিত হচ্ছে। এ শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযানের সংখ্যা, ধরন, মালিকানা, নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রণীত ডাটাবেজ দেশের নৌপরিবহন খাতের পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে জানান সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর