দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৯৪ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে এক দিনে এটাই সর্বোচ্চ রোগী হাসপাতালে ভর্তির ঘটনা। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ জনে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, গতকাল রবিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২১৫ জন খুলনা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৫৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১২৬ জন, বরিশাল বিভাগে ১১৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৭ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৯৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ৭৬ জন, ময়মনসিংহে ৭১ জন, রংপুরে ২৩ জন এবং সিলেট বিভাগে চারজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ২৯ হাজার ৯২৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৬২ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৭ হাজার ৭৫৮ জন।
মৃত্যুর পরিসংখ্যানও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই মারা গেছেন ৩১ জন। এ ছাড়া জুলাইয়ে ৩৬, জুনে ১৩, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা গেছেন। মার্চ ও এপ্রিলে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ছিল না।
আক্রান্তে পুরুষ বেশি, মৃত্যুতে নারী
ডেঙ্গুর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে আরেকটি বিষয়ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি হলেও মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীদের হার বেশি। ২৩ আগস্ট পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, মোট মৃত্যুর ৫৯ শতাংশই নারী। অথচ মোট আক্রান্তদের মধ্যে নারীর হার ৩৮ শতাংশ। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেথ রিভিউ বা মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনার কাজ শুরু করেছে।
আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুর নমুনা পরীক্ষায় **ডেন-৩ সেরোটাইপের আধিপত্য** দেখা যাচ্ছে। ৭১টি নমুনা বিশ্লেষণে ৯১ দশমিক ৫ শতাংশে ডেন-৩ এবং ৮ দশমিক ৫ শতাংশে ডেন-২ শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে, চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে জুলাইয়ের পর থেকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। সর্বশেষ এক দিনে ৯৯৪ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য সেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকেই আরও স্পষ্ট করছে। বর্ষাকালে এডিস মশার বিস্তার এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিকে কেন্দ্র করে সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর