পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তাঁর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বানের পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর পবিত্র জীবন ও কর্ম আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ।
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বাংলাদেশের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি মহানবী (সা.)-এর প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম জানান।
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আহযাবের ২১ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল কুরআনের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারে তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর জীবন থেকে আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতার শিক্ষা পাওয়া যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিয়েছেন। এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন তিনি। পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপরও মহানবী (সা.) বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
বর্তমান বিশ্ব যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয়সহ নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সময়ে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
তরুণ প্রজন্মকে দেশের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা হতে পারে। তাঁর শিক্ষা তরুণদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়; মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশেও এর গভীর তাৎপর্য রয়েছে। তাঁর আদর্শ ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে ধারণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করতে হবে। এর মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহর কাছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের তাওফিক কামনা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রার্থনা করেন।
তিনি দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান।
সূত্র: বাসস
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জাতীয় এর সর্বশেষ খবর