যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র্যাটক্লিফ গোপন সফরে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে গেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মস্কোতে র্যাটক্লিফের বৈঠক করার কথা রয়েছে। তবে তিনি রাশিয়ায় কার সঙ্গে বৈঠক করবেন বা সফরের উদ্দেশ্য কী—এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সিআইএও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
র্যাটক্লিফের সফরের খবর সামনে আসে মস্কোর একটি বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার-৩ পরিবহন বিমান এবং মার্কিন কূটনৈতিক বহর দেখা যাওয়ার পর। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো পরে নিশ্চিত করে, সিআইএ পরিচালকই বর্তমানে মস্কোতে রয়েছেন।
সিআইএ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাশিয়ায় এটিই র্যাটক্লিফের প্রথম জানা সফর বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর আগে তিনি রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন।
একজন জ্যেষ্ঠ ইউক্রেনীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, র্যাটক্লিফের সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে জানিয়েছিল যে একটি উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদল মস্কো সফর করবে। ওই প্রতিনিধিদলের সফর শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেনকে রাশিয়ার ওপর হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধও করা হয়েছিল।
এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঝুঁকি নেওয়ার হিসাব-নিকাশে পরিবর্তন আসছে বলে সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এতে বলা হয়েছে, পুতিন ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক পদক্ষেপ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি আগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন। এর মধ্যে প্রচলিত যুদ্ধের বাইরে হাইব্রিড কার্যক্রম ও দায় অস্বীকার করা সম্ভব—এমন বিভিন্ন পদক্ষেপও থাকতে পারে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ন্যাটো ও ট্রাম্প প্রশাসনের দৃঢ়তা পরীক্ষা করা হতে পারে বলে মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা।
র্যাটক্লিফের মস্কো সফরের সময় ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের বিভিন্ন শর্ত ও মূল বিষয়গুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে।
রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের বন্দিবিনিময়েও সিআইএর ভূমিকা রয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে মার্কিন-রুশ দ্বৈত নাগরিক কেসেনিয়া কারেলিনার মুক্তির বিষয়ে র্যাটক্লিফ ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক ইভান গের্শকোভিচ ও সাবেক মার্কিন মেরিন পল হুইলানের মুক্তির বন্দিবিনিময়েও সিআইএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এর আগে সাবেক সিআইএ পরিচালক উইলিয়াম বার্নস ২০২১ সালের নভেম্বরে মস্কো সফর করেছিলেন। সে সময় তিনি রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং ইউক্রেনে হামলা না চালানোর বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর