বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের চোমরপাথালিয়া নৌকা বাইচ মেলাকে কেন্দ্র করে আয়োজক কমিটির লাঠিয়াল বাহিনীর হামলা, পক্ষপাতিত্ব ও অবাধ চাঁদাবাজির জেরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হীরা মাস্টারসহ উভয় পক্ষের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আজ বুধবার (২৬ আগষ্ট) দুপুরে সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে। আহত হীরা মাস্টার চোমরপাথালিয়া গ্রামের দবির উদ্দিনের ছেলে। তাঁকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, গত চার দিনে মেলাকে কেন্দ্র করে একাধিক মারামারির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আজ বুধবার দুপুরে মির্জাপুর ও বিনোদপুর এলাকার বাসিন্দারা চোমরপাথালিয়া গ্রামে শালিস বৈঠকে অংশ নিতে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর মেলা কমিটির সভাপতি সেলিম উপস্থিত থাকলেও সেক্রেটারি হিরাসহ যারা হামলা করে তারা অনুপস্থিত ছিল বৈঠকে।
পরবর্তীতে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যারা অভিযুক্ত তারা নেই, তাই আজকের শালিস বৈঠক বাতিল করে মেলা শেষে বসা হবে। পরে বিনোদপুরের লোকজন দেখতে পান মেলা কমিটির সেক্রেটারী হিরাসহ অভিযুক্ত সদস্যরা মেলা প্রাঙ্গণের দোকানগুলোতে চাঁদা তুলছেন। এ নিয়ে শালিস বৈঠকের দাবিতে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ বিষয়ে সুঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জিহাদ বলেন, আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ শালিস বৈঠকে সেখানে মেলা কমিটির সেক্রেটারী হিরাসহ অভিযুক্তরা উপস্থিত ছিল না। যার ফলে শালিস বৈঠকে বাতিল হয়েছে। কিন্ত শুনতে পালাম হিরা মেলার মধ্যেই ছিল। কেন শালিস বৈঠকে উপস্থিত ছিল এখানে প্রশ্ন থেকে যায়। তারপর এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার সুষ্ট তদন্ত করে উভয় পক্ষের মধ্যে মিমাংসা করে দিতে হবে। তাছাড়া পরবর্তীতে ঘটনা বড় হতেই থাকবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত সোমবার বিকেলে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকার চালক ও ঘুরতে আসা সাধারণ দর্শনার্থীদের ওপর নির্মম হামলা চালায় মেলা কমিটির লাঠিয়াল বাহিনী। ওই হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া গত ২২ আগস্ট (শনিবার) নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় প্রকাশ্য পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ‘বিজয় নিশান-১’ ও ‘বিজয় নিশান-২ (হুরুম)’ নামের দুটি প্রতিযোগী নৌকা মেলা বর্জন করে চলে যায়। ধারাবাহিক তাণ্ডব, পক্ষপাতিত্ব ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে মেলাটি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মেলা কমিটির সভাপতি সেলিম বলেন, মেলাতে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তা স্থানীয়ভাবে বসে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছিল। শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, মারামারির খবর পেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর