বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মৃত্যুবার্ষিকীতে সকালে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, পেশাজীবী, পরিবারের সদস্য এবং কবির ভক্ত-অনুরাগীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন।
পরে কবির সমাধি প্রাঙ্গণে উন্মুক্ত মঞ্চে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন। বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ সালেকীন) অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, তাঁর জীবন ও সাহিত্যকর্ম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায়। সমাজের বৈষম্য, অনাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শেখায়। সাম্য, সৌহার্দ্য ও শান্তি বজায় রেখে নিজেদের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য ধরে রাখার শিক্ষাও আমরা নজরুলের সাহিত্যকর্ম থেকেই পাই। তিনি বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী ছিলেন। তাঁর জীবন ও সাহিত্যকর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি মমত্ববোধ এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্য উপাচার্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়া, জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ বাদ ফজর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিয়া’য় কোরানখানি অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রদ্ধা জানাতে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জাতীয় কবির বিদ্রোহী চেতনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নজরুলের সাহিত্য ও আদর্শ মানুষকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। জুলাই আন্দোলনেও তাঁর চেতনা প্রেরণা জুগিয়েছে।
তবে জাতীয় কবিকে ঘিরে পরিবারের বেশ কিছু দাবি এখনো পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। জাতীয় জাদুঘরে নজরুল কর্নার সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নজরুল কর্নার স্থাপনের দাবি জানান পরিবারের সদস্যরা।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর