একসময় সন্ধ্যা নামলেই পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জমে উঠত নাট্যকর্মীদের আড্ডা। মঞ্চে উঠত একের পর এক নাটক, দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে উঠত মিলনায়তন। সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে যায়। নিয়মিত মঞ্চনাটকের আয়োজন কমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে দর্শকদেরও দূরে সরে যাওয়ার অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের।
তবে সেই চিত্রে যেন নতুন করে পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। বহু বছর পর আবারও দর্শকদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হলো পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তন। টিকিটের জন্য আগ্রহ, নির্ধারিত সময়ের আগেই দর্শকদের ভিড় এবং নাটক শেষে দীর্ঘ করতালি নতুন করে আলোচনায় এনেছে পটুয়াখালীর মঞ্চনাটককে।
স্থানীয় নাট্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিয়মিত নাটক মঞ্চস্থ না হওয়া, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, অর্থসংকট এবং নাট্যদলগুলোর কার্যক্রমে স্থবিরতার কারণে পটুয়াখালীর মঞ্চনাটক অনেকটাই পিছিয়ে পড়ে। অন্যদিকে টেলিভিশন, ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর বিনোদনের বিস্তারও দর্শকদের অভ্যাসে বড় পরিবর্তন এনেছে।
তবে এসবের মধ্যেও একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে, দর্শক যদি সত্যিই মঞ্চ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন, তাহলে একটি নাটক দেখতে কেন আবার এত মানুষ শিল্পকলা একাডেমিতে ছুটে এলেন?
সাম্প্রতিক আয়োজনের দৃশ্য বলছে, ভালো নাটক ও মানসম্মত আয়োজন হলে দর্শক এখনো মঞ্চে ফিরতে আগ্রহী। বিভিন্ন বয়সী দর্শকের উপস্থিতি বিশেষভাবে লক্ষ করা গেছে। তরুণদের পাশাপাশি পরিবার নিয়ে অনেক দর্শকও নাটক দেখতে এসেছেন।
নাট্যকর্মীদের একাংশ মনে করছেন, দর্শকের অভাবের চেয়ে বড় সমস্যা ছিল নিয়মিত ও মানসম্মত আয়োজনের অভাব। ধারাবাহিকভাবে ভালো নাটক মঞ্চস্থ হলে পটুয়াখালীতে আবারও শক্তিশালী দর্শকগোষ্ঠী তৈরি করা সম্ভব।
একটি সফল মঞ্চায়নের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই দর্শকসমাগম কি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়ে থাকবে, নাকি নিয়মিত নাট্যচর্চার সূচনা করবে?
নাট্যকর্মীদের দাবি, স্থানীয় প্রশাসন, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ব্যবসায়ী সমাজ এগিয়ে এলে নিয়মিত নাট্যোৎসব, কর্মশালা ও মঞ্চায়নের আয়োজন করা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় শিল্পীরা কাজের সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মও নাট্যচর্চায় আগ্রহী হবে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চনাটক "থিয়েটারওয়ালা'র" প্রদর্শনী হয়। জেলা কালচারাল অফিসার কাজী কামরুজ্জামান এর সমন্বয়ে ও স্বপ্নীল দাস এর রচনা ও অপূর্ব আশরাফ এর নির্দেশনায় এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
পটুয়াখালীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বহুদিনের নীরবতার পর পূর্ণ মিলনায়তনের এই দৃশ্য তাই শুধু একটি নাটকের সাফল্য নয়, বরং একটি সম্ভাবনার ইঙ্গিতও হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এই আগ্রহকে কতটা ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনে রূপ দিতে পারেন স্থানীয় নাট্যকর্মী ও আয়োজকেরা।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর