ফরিদপুরের নগরকান্দায় দীর্ঘদিনের জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ফরিদপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন ইয়াসমিন বেগম (৪৭) নামে এক নারী।
আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের পূর্ব সদরবেড়া এলাকায় ইয়াসমিন বেগমের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ইয়াসমিন বেগমের পরিবারের সঙ্গে বাচ্চু শেখের পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগীর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বসতবাড়ির একটি একতলা ভবনের অংশ ভেঙে ফেলেন। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বাদীপক্ষ দাবি করেছে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ইয়াসমিন বেগমের ভাই মোস্তফা মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মাথা ও পায়ে গুরুতর আহত করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
ইয়াসমিন বেগম বলেন, “ঘটনার পর থেকে আমরা বাড়িতে যেতে পারছি না। যেকোনো সময় আমাদের মেরে ফেলতে পারে, এই ভয় রয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ইয়াসমিনের বাবা ইমাদউদ্দিন বলেন, “আমাদের জায়গা-জমির প্রয়োজন নেই, আমরা এখন প্রাণভয়ে আছি। আমরা নিরাপত্তা চাই।”
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন মো. বাচ্চু শেখ, মো. বিল্লাল শেখ, মো. নাজমুল শেখ, বাকি মালতি, নিলুফা বেগম, মো. সালাম মাতুব্বর, মো. মিরাজ শেখ, মো. খোকন শেখ, মো. সালাম মোল্লা, মো. আলম ব্যাপারী, মো. রাশেক মৃধা ও মো. জাকির শেখ।
মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একই জমি নিয়ে আগে থেকেই আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে। ওই মামলায় বাদীপক্ষ জমির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা বা স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ পেয়েছে বলে দাবি করেছে। ওই আদেশ থাকা সত্ত্বেও জমিতে প্রবেশ করে হামলা ও স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ বাদীপক্ষের।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার আসামি বাচ্চু শেখ। তিনি বলেন, “জায়গাটি আমাদের দলিলকৃত সম্পত্তি। তাই জায়গা ঘিরতে আমরা দেয়াল দিয়েছি। আমরা কারও কোনো কিছু ভাঙচুর করিনি।”
ওই স্থানে আগে কোনো ভবন ছিল কি না, জানতে চাইলে বাচ্চু শেখ তা অস্বীকার করেন। তবে ঘটনাস্থলের আগের ভিডিওতে সেখানে ইটের দেয়াল দিয়ে তৈরি একটি আধাপাকা ঘরের অস্তিত্ব দেখা যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।
এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, “ঘটনাটি আমি শুনেছি। তারা থানায় এসেছিল, কিন্তু কোনো মামলা না করেই চলে যায়। পরে জানতে পেরেছি, তারা আদালতে মামলা করেছে। আদালত থেকে এখনো কোনো কাগজপত্র আমরা পাইনি। কাগজপত্র পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর