নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেছেন।
মামলায় বিএনপি নেতা বকুল মিয়াসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার দ্বিতীয় আসামি মো. আবু মিয়া (৩৬)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রধান আসামি বকুল মিয়া (৫০) পলাতক রয়েছেন। বকুল মিয়া কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি ভুক্তভোগী ছাত্রীর আত্মীয় বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলার এজাহার ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী বর্তমানে দশম শ্রেণির ছাত্রী। ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে যান বকুল মিয়া। সেখানে তাকে ধর্ষণ এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তখন ওই ছাত্রী ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এজাহারে আরও বলা হয়, ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এতে আরও কয়েকজন সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার এক নারী সহযোগী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান এবং সেখানে অন্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগও করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময় একইভাবে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের ভাষ্যমতে, গত ১ আগস্ট ওই ছাত্রী চট্টগ্রামে তার বড় ভাইয়ের কাছে গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে বিষয়টি জানায়। ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা পরীক্ষা করানো হলে সে প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। ২৫ আগস্ট বাড়ি ফেরার পর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বিস্তারিত জানতে পারেন। পরদিন ২৬ আগস্ট থানায় মামলা করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। এদিকে বকুল মিয়ার দলীয় পদ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন।
তিনি বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আজ রাতেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী কাউকে দলে রাখা হবে না।”
কেন্দুয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে
ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে (৫০) দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন।
গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি খোকন আহমেদ ডিলার ও সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেন হোসেন খান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেন হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বহিষ্কার করার ক্ষমতা আমাদের নেই, এটা সিনিয়র নেতৃবৃন্দ করতে পারেন। তাই আমরা তাকে অব্যাহতি দিয়েছি।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর