• ঢাকা
  • ঢাকা, শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৭ সেকেন্ড পূর্বে
মো: সাইফুল আলম সরকার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত : ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০৮ রাত

নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনে টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে: সিআইপিজি

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

গবেষণাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স (সিআইপিজি)’ আয়োজিত ‘আইন-শৃঙ্খলা অবনতির বহুমাত্রিক কারণ ও টেকসই সমাধানের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব, বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা, দুর্বল বিচার ব্যবস্থা, ক্রমবর্ধমান মব ভায়োলেন্স ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম নাজুক রূপ ধারণ করেছে। তারা উল্লেখ করেন, কোনো নির্দিষ্ট সরকারের সমালোচনা নয়, বরং বাস্তবতার নিরিখে অপরাধের মূল কারণ চিহ্নিত করে একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনে টেকসই সমাধান খুঁজে বের করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানী ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সিআইপিজির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ (কীনোট) উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির।

আলোচনায় অংশ নেন সিআইপিজির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সিনিয়র সচিব মো. সফিউল্লাহ, সাবেক সচিব মো. হুমায়ুন কবীর, ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার বাদী ও সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মাসদার হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এবিএম গোলাম মুস্তফা এবং সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল কাইয়ুম। অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে সঞ্চালনা করেন সাবেক সচিব মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম।

সভাপতির বক্তব্যে সিআইপিজির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে খুনখারাবি ও সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের প্রাথমিক ও মৌলিক দায়িত্বগুলোর একটি। আমাদের অবশ্যই অপরাধের মূল উৎপত্তি খুঁজে বের করতে হবে। তিনি যোগ করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সুনাগরিক তৈরির দুর্গ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে সমাজের প্রতিটি স্তরকে এগিয়ে আসতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতির জন্য সরকার, বিরোধী দল, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ জনগণের মধ্যে সুদৃঢ় সমন্বয় গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

কী-নোট উপস্থাপনায় ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির বলেন, নাগরিক হিসেবে আমরা সরকারকে কর দিই, তাই আমাদের জানমালের সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। যে রাষ্ট্র নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, সে রাষ্ট্র শাসন করার অধিকার রাখে না। গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ‘পুলিশ’ কেবল ক্ষমতাসীন সরকারের অনুগত হয়ে কাজ করেছে, জনগণের সুরক্ষায় নয়।

তিনি আফসোস করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অপরাধবিদ্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও গবেষণায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই। এছাড়া পিনাল কোডে হত্যার সংজ্ঞায়ন ও ১৮৬০ সালের পুরোনো পুলিশ আইন যুগোপযোগী না হওয়া, দুর্বল তদন্ত ব্যবস্থা এবং পুলিশের নিজেদের অপরাধ নিজেদের দিয়ে তদন্ত করানোর সংস্কৃতি পুরো আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে ভঙ্গুর করে তুলেছে। বিচারে দীর্ঘসূত্রতার কারণে নির্দোষ মানুষকে বছরের পর বছর কারাগারে কাটাতে হচ্ছে, যা তনু হত্যা মামলার মতো ঘটনায় দৃশ্যমান।

তিনি আরও জানান, বিচার বিভাগ থেকে সরকার বছরে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয় মাত্র ২৬০ কোটি টাকা, আর ২০ কোটি মানুষের জন্য আপিল বিভাগে মাত্র ৩ ঘণ্টার সময়কাল আন্তর্জাতিক মানে একেবারেই অপ্রতুল। এই অসভ্য পরিবেশ থেকে উত্তরণে সদিচ্ছা, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার ওপর তিনি জোর দেন।

সিআইপিজির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সিনিয়র সচিব মো. সফিউল্লাহ সিঙ্গাপুর ও জাপানের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে শৈশব থেকেই শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষার মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হয়, যা শিক্ষাব্যবস্থায় বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। তিনি আইন-শৃঙ্খলা অবনতির মূল কারণ হিসেবে বিচারহীনতার সংস্কৃতি, বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা, মামলার বিশাল জট, অপ্রতুল

পুলিশ সদস্য ও যুবসমাজের ব্যাপক বেকারত্বকে দায়ী করেন। এর সমাধানে তিনি সরকারের নিজ উদ্যোগে স্বাধীন বিচার বিভাগ ও এলাকাভিত্তিক ‘কমিউনিটি পুলিশ’ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, জরুরি রাজনৈতিক ও সংবিধান সংস্কার, বিভিন্ন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনমতের প্রতিফলনে ‘গণভোট’ প্রবর্তনের তাগিদ দেন।

সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মাসদার হোসেন বলেন, সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর ১০ বছরের মাদানি জীবন আমাদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ মডেল, কীভাবে তিনি আইয়ামে জাহিলিয়াতের চরম বিশৃঙ্খল পরিবেশকে বিশ্বে সুশৃঙ্খল সমাজ হিসেবে রূপান্তর করেছিলেন। সবাই পরিপূর্ণ মুসলিম ও মানবিক গুণাবলীতে ভূষিত হলে অপরাধ নিজ থেকেই কমে যাবে। তিনি নেপাল ও সিঙ্গাপুরের প্রসঙ্গ টেনে দেশে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে কথা বলেন এবং উল্লেখ করেন যে, মাত্র দুটি আপিল বেঞ্চ থাকায় বর্তমানে উচ্চ ও নিম্ন আদালতে প্রায় ৪৭ লাখ মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে, যা বিচারপ্রার্থীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলছে।

ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এবিএম গোলাম মুস্তফা বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু রাত নয়, দিনের আলোতেও মানুষ নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারছে না। মেজর সিনহা ও রামিসা হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও সুশাসনের অভাবেই আজ দেশে ‘মব ভায়োলেন্স’ বা মব জাস্টিস আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে প্রায় ১ কোটি বেকারের মধ্যে ৪১ থেকে ৪৫ লাখই শিক্ষিত তরুণ-তরুণী। কেউ অপরাধী হয়ে জন্মায় না, সমাজ ও রাষ্ট্রই তাকে অপরাধী বানিয়ে তোলে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়ন্ত্রিত মূল্য বৃদ্ধি মানুষকে অপরাধে লিপ্ত হতে বাধ্য করছে। ফেলানি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা শিথিল থাকা ও মাদকাসক্তি বাড়ায় অপরাধ চরম রূপ নিচ্ছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে সরকার ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষ একবেলা না খেয়ে থাকলেও একটি নিরাপদ জীবন প্রত্যাশা করে।

সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল কাইয়ুম ১৯৭১ পরবর্তী বাংলাদেশের বিভিন্ন শাসনামলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। তিনি বলেন, ১৯৭২-৭৫ সালে দেশের আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে ১৯৭৯-৮০ সালে জিয়াউর রহমানের আমলে পোশাক শিল্প ও বিদেশে শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের মাধ্যমে আমূল পরিবর্তন ও স্থিতিশীলতা লাভ করে। পরবর্তীতে এরশাদ আমল ও পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর সময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জনসেবার চেয়ে কেবল সরকারের ইচ্ছাপূরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমলেও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

সাবেক সচিব মো. হুমায়ুন কবীর সংক্ষেপে বলেন, কোনো কাঠামোগত আইন পরিবর্তন করার আগে রাষ্ট্র ও সমাজে সর্বাগ্রে ‘সৎ ও নৈতিক মানুষ’ তৈরি করতে হবে, অন্যথায় কোনো আইনই কার্যকর সুফল দেবে না।

পরিশেষে, সিআইপিজির নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. খুরশীদ আলম উপস্থিত সকল অতিথিবৃন্দ, আলোচক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

বাপ্পি/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]