মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। সরকারের ঘোষিত ‘জিরো কস্ট স্কিম’-এর আওতায় মালয়েশিয়ায় পাঠানোর জন্য নির্ধারিত ১০ হাজার কর্মীর মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে চিহ্নিত ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার ৭৭৭ কর্মীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আদালতে একটি ‘অ্যাফিডেভিট ইন কমপ্লায়েন্স’ দাখিল করে। এতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি কর্মী পাঠাতে ব্যর্থ এবং বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে গৃহীত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থার বিষয়েও আদালতকে অবহিত করা হয়।
শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, সরকারের নতুন উদ্যোগের আওতায় কোনো খরচ ছাড়াই ১০ হাজার কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে আদালত পর্যবেক্ষণ দেন যে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে চিহ্নিত ১৭ হাজার ৭৭৭ কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে না পারায় আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে আদালত নির্দেশ দেন, ‘জিরো কস্ট স্কিম’-এর আওতায় মালয়েশিয়ায় পাঠানোর জন্য নির্বাচিত ১০ হাজার কর্মীর ক্ষেত্রে এসব ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এ ছাড়া মামলাটি চার মাসের জন্য মুলতবি রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের অগ্রগতি জানিয়ে আদালতে একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মালয়েশিয়ায় যেতে ব্যর্থ হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কর্মীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত ও প্রতিকার প্রদানের ক্ষেত্রে আদালতের এই নির্দেশনা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
আইন ও আদালত এর সর্বশেষ খবর