সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি মো. রিপন হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন হোসেন শান্তকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
বার্তায় বলা হয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মো. সালাহউদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ-উর-রহমান বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। একই সঙ্গে ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে বহিষ্কৃত দুই নেতার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে রবিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় এক প্রবাসীর স্বজনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগে বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদীর বাসিন্দা ও মালয়েশিয়া প্রবাসী কাউসারের ছোট ভাই মো. সুমন গত ২৯ আগস্ট বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপন হোসেনকে দুই নম্বর, সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন হোসেন শান্তকে তিন নম্বর এবং বিমানবন্দর সাংগঠনিক ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুবেলকে চার নম্বর আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে যা বলা হয়েছে
মামলার এজাহারে বাদী মো. সুমন উল্লেখ করেন, তার বড় ভাই কাউসার মালয়েশিয়া প্রবাসী। পরিবারের ব্যবহারের জন্য এবং বোনের বিয়ের উদ্দেশ্যে গত ২৮ আগস্ট তিনি মালয়েশিয়া থেকে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাঠান।
এজাহার অনুযায়ী, ওইদিন রাত ৮টার দিকে সুমন ও তার বন্ধু রোহান চৌধুরী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কাউসারের পরিচিত এক ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণালংকারগুলো বুঝে নেন। এর মধ্যে ১০০ গ্রাম সুমনের কাছে এবং বাকি ১০০ গ্রাম তার বন্ধু রোহানের কাছে ছিল। পরে তারা ভাড়া করা একটি হায়েস গাড়িতে করে রওনা হন।
অভিযোগে বলা হয়, রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে বিমানবন্দর থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বলাকা ভবনের বিপরীত পাশে আসামিরা তাদের গাড়ির গতিরোধ করেন। এরপর তাদের আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের কর্মী আখ্যা দিয়ে এবং সঙ্গে বোমা থাকার অভিযোগ তুলে মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে তাদের কাছে থাকা ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। এ সময় একজন পথচারী তাদের রক্ষার চেষ্টা করেন এবং আরেকজন কৌশলে নিজের মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে ঘটনাস্থলে আরও লোকজন জড়ো হতে থাকলে অভিযুক্তরা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে মামলায় করা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর