সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অ-প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের টাকা উত্তোলনের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে মেয়াদি আমানত থেকে শুধু আসল টাকা তুলে নিলে সেটিকে ওই আমানতকারীর সঙ্গে ব্যাংকের পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। পরবর্তীতে ওই হিসাবের বিপরীতে কোনো অতিরিক্ত অর্থ বা মুনাফা দাবি করা যাবে না।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। ‘ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম, ২০২৫ (৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সংশোধিত)’-এর আওতায় জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কোনো অ-প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারী তার চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের স্থিতি এবং মেয়াদি হিসাবের শুধু আসল অর্থ উত্তোলন করতে চাইলে হস্তান্তরগ্রহীতা ব্যাংক তা পরিশোধ করবে।
এ ক্ষেত্রে মেয়াদি হিসাবের ‘আসল অর্থ’ বলতে আমানতকারী নিজের তহবিল থেকে হস্তান্তরকারী ব্যাংকে আমানত হিসেবে যে অর্থ জমা রেখেছেন, সেটিকে বোঝানো হয়েছে। এর সঙ্গে কোনো মুনাফা যুক্ত হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কোনো আমানতকারী মেয়াদি হিসাবের আসল টাকা উত্তোলনের এ সুবিধা নিলে সেটিই ওই হিসাবের ক্ষেত্রে তার সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ফুল অ্যান্ড ফাইনাল সেটেলমেন্ট হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে পরবর্তীতে ওই আমানতের বিপরীতে কোনো মুনাফা বা অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা যাবে না।
এ ছাড়া কোনো আমানতকারীর ব্যাংকের কাছে দায় বা ঋণ থাকলে টাকা পরিশোধের আগে তার আমানত থেকে সেই দায় সমন্বয় করা হবে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের আওতায় আসা হস্তান্তরকারী ব্যাংকগুলোর যেকোনো একটিতে আমানতকারীর দায় থাকলেও একইভাবে আমানত থেকে ওই দায়ের মোট অর্থ সমন্বয় করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিমের বিদ্যমান কিছু বিধান থাকা সত্ত্বেও জনস্বার্থ বিবেচনায় অ-প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের টাকা উত্তোলনের এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
স্কিমের ২১ ও ২১(খ) অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে নতুন এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর ফলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অ-প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের অর্থ এবং মেয়াদি আমানতের আসল টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে মেয়াদি আমানতের আসল টাকা তুলে নিলে ভবিষ্যতে ওই হিসাবের বিপরীতে মুনাফা বা অন্য কোনো অতিরিক্ত অর্থ দাবি করার সুযোগ থাকবে না।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
কৃষি, অর্থ ও বাণিজ্য এর সর্বশেষ খবর