বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে চালু থাকা উচ্চমূল্যের ভিসা বন্ড ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
বুধবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সাক্ষাৎ শেষে বঙ্গভবন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ওপর ভিসা বন্ড আরোপের যে নির্দেশনামা দেওয়া হয়েছিল, তাতে ভিসাপ্রার্থীদের জামানত হিসেবে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত জমা দেওয়ার বিধান রাখা হয়। এই বিষয়টি বাংলাদেশিদের জন্য ভ্রমণ ও ব্যবসা পরিচালনায় জটিলতা তৈরি করছে উল্লেখ করে তা শিথিলের ওপর জোর দেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় তাকে অভিনন্দন জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। জবাবে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিআরআরআই) এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ (বারি) দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের অতীতের ধারাবাহিক সমর্থনের কথা স্মরণ করেন এবং এ খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান শেভরনের ইতিবাচক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি এই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশা প্রকাশ করেন।
তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও উচ্চ প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পে মার্কিন বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তরের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে আসিয়ান জোটের দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্য চুক্তিগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভিহিত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “উভয় দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনায় রেখে এসব চুক্তিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক করার সুযোগ রয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে আগামী দিনে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর