মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বদলে গেছে নদীর গতিপথ। কোথাও চার গুণ, কোথাও প্রায় ছয় গুণ পর্যন্ত বেড়েছে ত্রিশূলী নদীর বিস্তার। স্যাটেলাইটের আগে ও পরের ছবিতে ধরা পড়েছে নেপালের ভয়াবহ বন্যার সেই ধ্বংসযজ্ঞ।
২৬ আগস্ট সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে হিমবাহ, পাথর ও বরফের ধস থেকে সৃষ্ট প্রবল জলস্রোত আঘাত হানে নেপালের রাসুয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায়। ভেসে যায় রাস্তা, সেতু, বাড়িঘর ও বাজার। পরে সেই স্রোত ত্রিশূলী নদী ধরে নুয়াকোটসহ আরও কয়েকটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
বন্যার ভয়াবহতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছে উপগ্রহচিত্রে। NDTV-এর ভ্যান্টর, প্ল্যানেট ল্যাবস, গুগল আর্থ ও গুগল ওপেন বিল্ডিংসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিপর্যয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ত্রিশূলী নদী ও আশপাশের জলপথের বিস্তার নাটকীয়ভাবে বদলে যায়।
রাসুয়া জেলার সীমান্তবর্তী তিমুরে এলাকায় বন্যার আগে ত্রিশূলী নদীর প্রস্থ ছিল প্রায় ৭৮ মিটার। বন্যার পর সেটি বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩৫০ মিটার—অর্থাৎ চার গুণেরও বেশি।
স্যাব্রুবেশিতেনদীর প্রস্থ প্রায় ৬৫ মিটার থেকে বেড়ে ৩০০ মিটার হয়েছে। প্রবল স্রোতে সেখানে প্রায় ৩০০টি বাড়ি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে নুয়াকোট জেলার চৌপথোকে। সেখানে বন্যার আগে ত্রিশূলী নদীর প্রস্থ ছিল প্রায় ৬৫ মিটার। বিপর্যয়ের পর সেটি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪৪৩ মিটার—অর্থাৎ প্রায় ছয় গুণ।
নুয়াকোটের বাত্তার এলাকাতেও একই চিত্র। সেখানে নদীর প্রস্থ ৯১ মিটার থেকে বেড়ে প্রায় ৩০৯ মিটার হয়েছে।
নেপাল সেনার তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক জলস্তর বৃদ্ধিতে রাসুয়া জেলার তিমুরে ও স্যাব্রুবেশি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসায় নদীর স্বাভাবিক গতিপথও বদলে যায়।
৯ দিন পর দুই শ্রমিক উদ্ধার
এদিকে বিপর্যয়ের দশম দিনে নতুন আশার খবর এসেছে। ত্রিশূলী-৩ ‘এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকে থাকা দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করেছে নেপাল সেনা ও উদ্ধারকারী দল।
সঞ্জয় শাহ ও কবির মহারজন নামে ওই দুই শ্রমিককে প্রায় ১৭০ মিটার গভীরতা থেকে উদ্ধার করা হয়। ২৬ আগস্টের বন্যার পর তাঁরা নয় দিন ধরে সুড়ঙ্গে আটকে ছিলেন। উদ্ধারের দৃশ্যের ভিডিও প্রকাশ করেছে নেপালের জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
তবে উদ্ধার অভিযান এখনও শেষ হয়নি। বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আরও বহু মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
নেপালে এই ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১,২০০ ছাড়িয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের তিব্বত অংশেও এই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে।
স্যাটেলাইটের আগে ও পরের ছবিগুলো তাই শুধু বন্যার ক্ষয়ক্ষতির হিসাবই দিচ্ছে না; হিমালয় অঞ্চলে একটি আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় কীভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নদী, জনপদ ও পুরো ভূদৃশ্য বদলে দিতে পারে, তারও ভয়াবহ দলিল হয়ে উঠেছে।
সূত্র: NDTV-এর স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ এবং নেপালের সরকারি/স্থানীয় সূত্র।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর