• ঢাকা
  • ঢাকা, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ২৩ সেকেন্ড পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:২৫ দুপুর

৩ সন্তান হত্যা মামলায় অভিযুক্ত মায়ের বিচার বাতিল

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে তিন সন্তানকে হত্যার অভিযোগে লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিচার জুরিদের মধ্যে মতৈক্য না হওয়ায় কোনো রায় ছাড়াই বাতিল ঘোষণা করেছে আদালত। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ম্যাসাচুসেটসের প্লাইমাউথের বিচারক উইলিয়াম সুলিভান মামলাটিতে মিস্ট্রায়াল ঘোষণা করেন। খবর রয়টার্সের।

প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা এবং টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এই বিচার সন্তান জন্মের পর নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং প্রসব-পরবর্তী মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত মায়েদের হাতে সন্তান হত্যার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন কীভাবে বিষয়টি বিবেচনা করবে—সে পুরোনো বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে।

জুরিদের কাছ থেকে একাধিক নোট পাওয়ার পর বিচারক সুলিভান মিস্ট্রায়ালের ঘোষণা দেন। চলতি সপ্তাহে জুরিরা কয়েক দফা জানায়, তারা মামলাটিতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছে না।

মিস্ট্রায়ালের ফলে মামলাটি নতুন করে বিচারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে প্লাইমাউথ কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি টিম ক্রুজ জানিয়েছেন, প্রসিকিউশন পুনর্বিচারের আবেদন করবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শিশুদের হত্যা করা হয়েছে এবং তার কার্যালয়ের দায়িত্ব হলো এই ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

৩৬ বছর বয়সী ক্ল্যান্সি ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বোস্টনের উপকণ্ঠ ডাক্সবারির নিজ বাড়ির বেসমেন্টে তিন সন্তানকে ব্যায়ামের ইলাস্টিক ব্যান্ড দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। নিহতরা হলো, ৫ বছর বয়সী কোরা, ৩ বছর বয়সী ডসন এবং ৮ মাস বয়সী ক্যালান।

এরপর ক্ল্যান্সি নিজেকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং দ্বিতীয় তলার একটি জানালা দিয়ে লাফ দেন। আত্মহত্যার চেষ্টা হিসেবে বর্ণিত ওই ঘটনায় তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন। বর্তমানে তিনি একটি রাষ্ট্রীয় মানসিক হাসপাতালে হেফাজতে রয়েছেন।

তার আইনজীবী কেভিন রেডিংটন আদালতে যুক্তি দেন, সন্তানদের হত্যার সময় ক্ল্যান্সি গুরুতর প্রসব-পরবর্তী মানসিক রোগ পোস্টপার্টাম সাইকোসিসে ভুগছিলেন। তাই তাকে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে নির্দোষ ঘোষণা করা উচিত।

রেডিংটন মিস্ট্রায়ালকে প্রতিরক্ষার জন্য জয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, একজন জুরি অন্য ১১ জনকে নির্দোষ রায় দেওয়ার পথে বাধা দিয়েছেন।

শুক্রবার জুরি প্যানেলের আলোচনার সপ্তম দিনে ওই জুরিকে সরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেন রেডিংটন। তিনি জুরি ফোরম্যানের পাঠানো একটি নোটের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয়েছিল একজন জুরি সন্দেহের বিষয়টি স্বীকার করলেও তা রায়ে প্রয়োগ করতে রাজি হচ্ছেন না।

তবে বিচারক সুলিভান ওই জুরিকে সরানোর আবেদন নাকচ করেন। এরপর রেডিংটন ম্যাসাচুসেটসের সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ চান। কিন্তু জরুরি আবেদনটি খারিজ করে দেয় সর্বোচ্চ আদালত। এর পরই বিচারক মিস্ট্রায়াল ঘোষণা করেন।

প্রসিকিউশনও স্বীকার করেছে যে সাবেক নার্স ক্ল্যান্সি মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে তাদের দাবি, সন্তানদের হত্যা করা ভুল এ বিষয়টি তিনি বুঝতে পারতেন এবং জেনেশুনেই হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

একজন মনোবিজ্ঞানীর সাক্ষ্য তুলে ধরে প্রসিকিউশন দাবি করে, ক্ল্যান্সি আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং মনে করেছিলেন, তাকে ছাড়া সন্তানরা কষ্ট পাবে। এ কারণে তাদেরও হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

হত্যার কিছুক্ষণ আগে ক্ল্যান্সি তার স্বামীকে খাবার আনতে এবং ওষুধের দোকানে যেতে পাঠিয়েছিলেন। এর আগে ফোনে স্বামী কত সময়ের মধ্যে বাড়ি ফিরবেন, সেটিও হিসাব করেছিলেন বলে আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়।

ক্ল্যান্সির সাবেক স্বামী প্যাট্রিক ক্ল্যান্সিসহ পরিবারের সদস্যরা আদালতে তার মানসিক অবস্থার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। প্যাট্রিক জানান, তৃতীয় সন্তান জন্মের পর কয়েক মাস ধরে তার স্ত্রী মানসিকভাবে ভুগছিলেন। তিনি একাধিকবার চিকিৎসকদের কাছে গিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন ধরনের ওষুধও সেবন করছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের কয়েক সপ্তাহ আগে ক্ল্যান্সি একটি মানসিক হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। তবে প্যাট্রিকের দাবি, হত্যার আগের দিনগুলোতে স্ত্রী নিজে বা সন্তানদের ক্ষতি করার কোনো পরিকল্পনা করছেন; এমন লক্ষণ তিনি দেখেননি।

ঘটনার দিন খাবার আনতে বের হওয়ার আগে ক্ল্যান্সির আচরণও স্বাভাবিক ছিল বলে জানান তিনি। পরে ফার্মেসি থেকে স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে সংক্ষিপ্ত কথা বলেন। বাড়ি ফিরে প্যাট্রিক তাকে পেছনের উঠানে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পান। তার কবজি ও ঘাড়ে কাটা দাগ ছিল। ক্ল্যান্সি তাকে জানান, তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।

সন্তানদের কথা জানতে চাইলে ক্ল্যান্সি তাদের বেসমেন্টে থাকার কথা বলেন। সেখানে গিয়ে প্যাট্রিক তিন সন্তানকে ব্যায়ামের ব্যান্ড গলায় বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান।

পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্ল্যান্সি জানান, তিনি একটি পুরুষের কণ্ঠস্বর শুনেছিলেন। ওই কণ্ঠস্বর তাকে বলেছিল, তিনি কিছু না করলে তার সুযোগ শেষ হয়ে যাবে এমন কথাও কয়েকজন সাক্ষী আদালতে জানান।

মামলাটির পুনর্বিচার হলে হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে লিন্ডসে ক্ল্যান্সির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। অন্যদিকে, মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে তাকে নির্দোষ ঘোষণা করা হলে মূল্যায়নের জন্য রাষ্ট্রীয় মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হতে পারে। সেখানে তার মানসিক অবস্থার নিয়মিত পর্যালোচনা করবে আদালত।

মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও নজরে এসেছে। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, মামলাটি সম্পর্কে তিনি অবগত এবং এর পুনর্বিচার হতে পারে বলে ধারণা করছেন।

ট্রাম্প ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ক্ল্যান্সি ভয়াবহ কাজ করেছেন এবং এর জন্য তাকে কোনো না কোনো মূল্য দিতে হবে।

ক্ল্যান্সির পরবর্তী শুনানি আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, মামলাটির সঙ্গে ২০০১ সালে টেক্সাসে আন্দ্রেয়া ইয়েটসের পাঁচ সন্তানকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যার ঘটনার তুলনা করা হচ্ছে। ওই মামলায় ইয়েটসের প্রথম দফার সাজা আপিল আদালত বাতিল করার পর ২০০৬ সালে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। তার আইনজীবীরাও তখন দাবি করেছিলেন, ইয়েটস গুরুতর পোস্টপার্টাম সাইকোসিসে ভুগছিলেন।

সূত্র : রয়টার্স

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]