• ঢাকা
  • ঢাকা, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৪৬ সেকেন্ড পূর্বে
মোঃ রুবাইয়াত হক
পটুয়াখালি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:০৩ রাত

সমুদ্রের ভাঙনে লণ্ডভণ্ড কুয়াকাটা সৈকত, হুমকিতে বনাঞ্চল ও স্থাপনা

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

বর্ষা এলেই তীব্র ভাঙনে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। সাগরের অব্যাহত ঢেউ ও জলোচ্ছ্বাসে একদিকে সংকুচিত হচ্ছে সৈকতের প্রস্থ, অন্যদিকে বিলীন হচ্ছে বনাঞ্চল, স্থাপনা ও বসতভিটা। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করলেও মিলছে না স্থায়ী সমাধান। বরং গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া জিও টিউব ব্যবহারে সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

১৯৯৮ সালে কুয়াকাটাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। সে সময় লেম্বুরবন থেকে গঙ্গামতির পয়েন্ট পর্যন্ত সৈকতের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮ কিলোমিটার। সময়ের সঙ্গে পশ্চিমে তিন নদীর মোহনা থেকে পূর্বে রামনাবাদ মোহনা পর্যন্ত সৈকতের বিস্তৃতি বেড়ে বর্তমানে প্রায় ২৯ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। তবে এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে সৈকতের প্রস্থে। প্রতিবছর ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সাগরের প্রবল ঢেউয়ে বালু ক্ষয়ে ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে সৈকত।

স্থানীয়দের দাবি, গত ৪০ থেকে ৫০ বছরে সমুদ্রের ভাঙনে প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার এলাকা বিলীন হয়েছে। গত এক দশকে নারিকেল বাগান, এলজিইডির ডাকবাংলো, ডিসি পার্কের একাংশ, কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান, ভূমি অফিসের গেস্ট হাউস, হোটেল-মোটেলসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সমুদ্রগর্ভে চলে গেছে। একই সঙ্গে হারিয়ে গেছে বহু মানুষের ঘরবাড়ি।

স্থানীয়রা জানান, একসময় কুয়াকাটা সৈকতে ছিল বড় বড় বালুর টেক ও বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল। সমুদ্রের কাছে যেতে দুই থেকে তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো। এখন সেই সমুদ্র লোকালয়ের একেবারে কাছে চলে এসেছে। এতে কুয়াকাটার অস্তিত্ব ও পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা পর্যটকরা বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে কুয়াকাটায় এসে সৈকতের বর্তমান চিত্র দেখে তারা হতাশ। সৈকত রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। বালু ক্ষয়ের কারণে এ সময় বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়ে যায়। এ বছরও ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, ট্যুরিস্ট বক্স, মসজিদ, মন্দির, মেরিন ড্রাইভসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। এসব স্থাপনা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাসের জিএম আল আমিন হাওলাদার বলেন, আবহাওয়ার কারণে যেভাবে কুয়াকাটা ভাঙছে, এ অবস্থা চলতে থাকলে পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা কুয়াকাটা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। সৈকত রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পিতভাবে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

গণমাধ্যমকর্মী ও পরিবেশকর্মী মেজবাহ উদ্দিন মাননু বলেন, গত ২০ বছর ধরে কুয়াকাটা সৈকতের ১৮ কিলোমিটার এলাকা রক্ষায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু প্রকল্পটি এখনো ঝুলে আছে। আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে কুয়াকাটাকে গড়ে তুলতে হলে দ্রুত সৈকত রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। ম্যানগ্রোভ ও নন-ম্যানগ্রোভ উভয় ধরনের বনাঞ্চলই এখন হুমকির মুখে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ বনাঞ্চল বিলীন হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ্ আলম বলেন, কুয়াকাটা সৈকতের ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০২৪ সালে ৭৫৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আপাতত জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে জিও টিউব ব্যবহার করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।

বাপ্পি/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]