• ঢাকা
  • ঢাকা, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ২৪ সেকেন্ড পূর্বে
মো: সাইফুল আলম সরকার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত : ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:০৪ রাত

তামাক নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা চালুর আহ্বান

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা প্রদানের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের (আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড) প্যাকেটেও কার্যকর ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) চালুর দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।

তারা মনে করেন, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ উপাদানের উপস্থিতি সম্পর্কে ভোক্তাদের সহজে বোঝার মতো তথ্য দেওয়া জরুরি। এ ধরনের লেবেলিং ভোক্তাদের সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেটসের (বিটিসিএ) উদ্যোগে বিটিসিএ সচিবালয়ের সভাকক্ষে “লার্নিং ফ্রম টোব্যাকো কন্ট্রোল: ইন্ট্রোডিউসিং এফওপিএল অন আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক এক সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় বিটিসিএর কমিটি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, তামাকজাত পণ্যের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে ভোক্তাদের সতর্ক করতে প্যাকেটে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে। প্যাকেটের গায়ে সরাসরি ও দৃশ্যমানভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকির তথ্য প্রদানের ফলে ভোক্তার কাছে পণ্যের ক্ষতিকর দিক সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। একই ধরনের জনস্বাস্থ্যভিত্তিক তথ্য প্রদানের ব্যবস্থা অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্ষেত্রেও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেটজাত ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহার ও চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। কারণ, এসব খাবারের অনেকটিতে উচ্চমাত্রায় চিনি, সোডিয়াম বা লবণ, স্যাচুরেটেড ফ্যাটসহ স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান থাকতে পারে। কিন্তু সাধারণ ভোক্তার পক্ষে প্যাকেটের পেছনে দেওয়া জটিল পুষ্টি-তথ্য দেখে তা সহজে বোঝা সবসময় সম্ভব হয় না।

তাদের মতে, এ কারণে প্যাকেটের সামনের অংশে সহজ, স্পষ্ট, দৃশ্যমান এবং বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ধারিত সতর্কতামূলক লেবেল থাকা প্রয়োজন।

সভায় এফওপিএল চালুর সম্ভাব্য কাঠামো নিয়েও আলোচনা করা হয়। বক্তারা মনে করেন, এফওপিএল এমন হওয়া উচিত, যাতে একজন ভোক্তা দোকানে কোনো পণ্য হাতে নেওয়ার পর প্যাকেটের সামনের অংশ দেখেই ওই খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা অস্বাস্থ্যকর চর্বির মাত্রা সম্পর্কে সহজে ধারণা নিতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের জন্য বোধগম্য প্রতীক, সতর্কতামূলক চিহ্ন, বার্তা বা অন্যান্য কার্যকর লেবেলিং পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা ও পর্যালোচনা করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশে এফওপিএল চালুর জন্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে দেশের জন্য উপযোগী একটি এফওপিএল মডেল তৈরি করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, পুষ্টিবিদ, চিকিৎসক, গবেষক, ভোক্তা অধিকার সংগঠন, নীতিনির্ধারক এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় সম্ভাব্য করণীয় হিসেবে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা, গবেষণা ও প্রমাণভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে সংলাপ আয়োজন এবং এফওপিএলের একটি কার্যকর নীতিগত কাঠামো প্রণয়নের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি, বিদ্যমান খাদ্য ও পুষ্টি নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের লেবেলিং ব্যবস্থা কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়েও ধারাবাহিকভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের অর্জিত অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে আইন, নীতি, জনসচেতনতা এবং অংশীজনদের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব। একইভাবে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায়ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, অসংক্রামক রোগের বোঝা কমাতে শুধু রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার দিকে নজর দিলেই হবে না; বরং রোগের ঝুঁকি কমানো এবং মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহিত করতে প্রতিরোধমূলক জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে সহজবোধ্য স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা চালু করা এ ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা একমত পোষণ করেন যে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের একার দায়িত্ব নয়। সরকার, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক, চিকিৎসক, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করাও জরুরি।

সভায় বাংলাদেশে ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) চালুর লক্ষ্যে ভবিষ্যতে আরও গবেষণা, নীতিগত আলোচনা, জনসম্পৃক্ততা এবং অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাপ্পি/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]