যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়তে পারে- এমন প্রত্যাশায় সোমবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। একই সঙ্গে চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
সোমবার গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ২০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০২ দশমিক ৮৬ ডলারে নেমে আসে। এর আগে শুক্রবারও স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ কমেছিল।
এদিকে ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দামও ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৪৭ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত বেড়েছে। তবে দেশটির বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্বল হয়ে পড়া মার্কিন শ্রমবাজারে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এর ফলে চলতি মাসে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) এবং শুক্রবার ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রকাশ হওয়ার কথা। এসব তথ্যের ওপর নির্ভর করবে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার নীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, কর্মসংস্থানের তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হওয়ায় স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরে ফেডের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানো হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহের মূল্যস্ফীতির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতির তথ্য শক্তিশালী হলে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা আরও বাড়বে। এতে বন্ডের সুদহার বাড়তে পারে, যা স্বর্ণের দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষিত বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে কোনো সুদ না দেওয়া এই সম্পদের আকর্ষণ কমে যায়। ফলে উচ্চ সুদের পরিবেশে স্বর্ণের চাহিদায় চাপ তৈরি হতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার বলেছেন, ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাতে ব্যর্থ হলে বাণিজ্য ঘাটতিতে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও বাজারে প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া সংকট মোকাবিলায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও নতুন করে হামলা হলে ‘বেদনাদায়ক জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে সোমবার স্পট রুপার দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৮০ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮০০ দশমিক ৫৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৯৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর