সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন (৫৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল হোতাসহ এজাহারনামীয় ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে কয়েকজন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধে সংশ্লিষ্ট বলে জানিয়েছে র্যাব।
সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০-এর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আপন ও জিহাদ অত্যন্ত অপরাধপ্রবণ। তাদের পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ডও ভালো নয়। তারা ওই এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেয় এবং মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ঘটনার সময় হামলাকারীরা সবাই নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলেও জানান তিনি।
র্যাব জানায়, এ ঘটনায় প্রথমে চারজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের প্রাথমিক সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। একই ঘটনায় র্যাব-৪ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে সাভার ও মুন্সীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আরও একজনসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
যেভাবে হামলার ঘটনা
শনিবার রাতে একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে আমিনবাজারের একটি গ্যারেজের মালিককে মারধর করা হচ্ছিল। বিষয়টি দেখে প্রতিবাদ করেন এসআই আলতাফ হোসেন। এ সময় একটি প্রাইভেট কারে থাকা পাঁচজন গ্যারেজ মালিকের ওপর হামলা করলে আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফুলের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আলতাফ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এতে হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি দৌড়ে তাঁর ছেলের কর্মস্থল একটি পোশাক কারখানায় আশ্রয় নেন। হামলাকারীরাও সেখানে গিয়ে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকে।
পরে তারা আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে আনে। দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তারা এসআই আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফুলকে মারধর করে। এ সময় কারখানার মেশিন ও আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আলতাফ হোসেনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
র্যাবের অধিনায়ক জানান, আলাউদ্দিন সরাসরি আলতাফ হোসেনের ওপর হামলা করেছে। জিহাদ চাকু দিয়ে তাঁকে আঘাত করে। আর আপন এসএস পাইপ দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে। আপনকে ওই এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের মূল হোতা হিসেবে উল্লেখ করে র্যাব জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে সাভার থানায় তিনটি মাদক মামলা রয়েছে। ইমরানও গণপিটুনিতে অংশ নেয়।
পুলিশ পরিচয় জানার পরও হামলা
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, আলতাফ হোসেন হামলাকারীদের পূর্বপরিকল্পিত কোনো টার্গেট ছিলেন না। তিনি এসবিতে কর্মরত ছিলেন এবং ঘটনার সময় সিভিল পোশাকে ছিলেন। একজন বৃদ্ধ গ্যারেজ মালিককে মারধর করতে দেখে একজন নাগরিক হিসেবে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ কারণে ঘটনাটি নিতান্তই বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারার কথা উল্লেখ করে র্যাবের অধিনায়ক বলেন, আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হলে শুধু পুলিশ নয়, সাধারণ নাগরিকও অপরাধীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে পারেন।
একই সঙ্গে কোনো অপরাধ বা বিপদের সময় এগিয়ে না এসে শুধু ছবি ও ভিডিও করার প্রবণতায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। এ ধরনের মানসিকতাকে মানুষের ‘নৈতিক স্খলনের বহিঃপ্রকাশ’ বলে মন্তব্য করেন র্যাব কর্মকর্তা।
গ্রেপ্তার ৯ জন
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন—সাভারের আমিনবাজার এলাকার জহিরুল ইসলাম, আলাউদ্দিন (২৬), আপন (৩০), জিহাদ (২০), ইমরান (২৬), নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), রাকিব মিয়া (২৮), ছাব্বির আহম্মেদ (২৪) ও ওয়াসিম (৪০)।
সাভার মডেল থানা থেকে তাঁদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। মামলার মূল হোতা জহিরুল ইসলামের ১০ দিনের এবং অন্য আট আসামির প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর