জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আবাসনসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল, পদোন্নতি বোর্ডের রেজুলেশনে অসংগতি, রিকশা ও দোকান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, ফজিলাতুন্নেছা হল সংসদের ভিপির বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং শিক্ষার্থী আসাদুল আলম শেখের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাবি সংসদ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৪৫মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজের সঞ্চালনায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রথম দাবিতে বলা হয়, 'শিক্ষার্থীরা যখন আবাসন ও সিট সংকটে ভুগছেন, তখন জাকসু ও হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হলে থাকার বিষয়ে প্রশাসনের জারি করা প্রজ্ঞাপন বৈষম্য ও ন্যায্যতার প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাই প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে বাতিল বা পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়। তবে জাকসু ও হল সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন অধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার' আহ্বান জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পদোন্নতি বোর্ডের রেজুলেশনে অসংগতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়। বোর্ডে সুপারিশ না পাওয়া একজন কর্মচারীর নাম কীভাবে রেজুলেশনে অন্তর্ভুক্ত হলো এবং পরবর্তীতে কেন তা সংশোধনের প্রয়োজন পড়ল এসব বিষয়ে প্রশাসনের কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। বিষয়টিকে কেবল ‘প্রস্তুতিগত ভুল’ হিসেবে এড়িয়ে না গিয়ে কোনো ব্যক্তি বা মহলের প্রভাব, চাপ কিংবা স্বার্থসংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
তৃতীয়ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রিকশাচালক, দোকানি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা বা অননুমোদিত অর্থ আদায়ের অভিযোগের তদন্ত দাবি করা হয়। কারা অর্থ আদায় করছে, কোন পরিচয় বা ক্ষমতা ব্যবহার করে তা করছে এবং সেই অর্থ কোথায় যাচ্ছে, এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার আহ্বান জানানো হয়।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
চতুর্থ দাবিতে ফজিলাতুন্নেছা হল সংসদের ভিপি ঐশী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। সংগঠনটি বলেছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না; আবার নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়ার কারণে অভিযোগ উপেক্ষাও করা উচিত নয়।
অভিযোগের প্রকৃতি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, নথি ও তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানানো হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং প্রমাণিত না হলে অপপ্রচার বা হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।
পঞ্চম দাবিতে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইন্সটিটিউটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল আলম শেখের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করা হয়।
এসময় জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি সংসদের সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, 'আসাদুলের সঙ্গে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।'
'একই সঙ্গে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর সঙ্গে তার কথোপকথনসহ সংশ্লিষ্ট চ্যাট, যোগাযোগ, ডিজিটাল তথ্য ও অন্যান্য প্রমাণ আইনানুগভাবে যাচাই ও শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি করার দাবি' জানান তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরের আয়ান বলেন, 'অভিযুক্ত ব্যক্তি যত বড় নেতাই হোন না কেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও জাতীয় ছাত্রশক্তি কোনো আপস করবে না' বলেও তিনি জানান।
এসময় জাতীয় ছাত্রশক্তির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মো. শরীফ, প্রচার সম্পাদক মো. আলী চিশতী, শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মুমিনুল ইসলাম শাওনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর