*সরিষাবাড়ীতে বিএনপি কর্মীর বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ*
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় স্থানীয় নিষিদ্ধ সংগঠনের ক্যাডাররা পলাশ মাহমুদ খান নামের এক বিএনপি কর্মীকে জিম্মি করে তাঁর বসতঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের তাড়িয়ে দিয়ে জমি দখলেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পলাশ মাহমুদ খান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রাণনাশের ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে তাঁর ছোট ভাই শিমুল খান নিশ্চিত করেছেন। বুধবার পৌর এলাকার বাউসী চন্দনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাউসী চন্দনপুর এলাকার মৃত মজনু খানের ছেলে পলাশ মাহমুদ খানের সঙ্গে প্রতিবেশী মৃত আ. সোবাহান ফকিরের ছেলে শহিদুর রহমানের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। বুধবার শহিদুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা বনানী থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি রাজন খান, স্থানীয় ক্যাডার মোশারফ হোসেন, মিষ্টার, হেলাল খান, মুনসের ফকির ও নজির হোসেনসহ শতাধিক ব্যক্তি বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের মদদে পলাশ খানের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের বের করে দিয়ে তিনটি বসতঘর ও একটি রান্নাঘরে লুটপাট শেষে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পোড়া ঘরের টিনের চাল খুলে বাঙালি মৌজায় পলাশ খানের ক্রয়কৃত ও পৈতৃক ৫৯ শতাংশ জমি দখলের পর সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে ঘরের দুটি পল্লী বিদ্যুতের মিটার ও সার্ভিস তারও খুলে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন পলাশ খান। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় ৯৯৯-এ কল করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও তাঁকে উদ্ধার করেনি। উল্টো তাঁকে হয়রানি করতে লুট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধেই মামলা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ভুক্তভোগী পরিবার জমি ও বাড়িঘর ফেরত পেতে এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট প্রতিপক্ষরা পলাশ খানের বাড়ির জমি দখল করতে গিয়ে শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলে। থানায় অভিযোগ না নেওয়ায় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে তিনি জানান।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে শহিদুর রহমান বলেন, আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই তিনি তাঁর জমি বুঝে নিয়েছেন। তিনি কারো জমি জবরদখল করেননি।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর