• ঢাকা
  • ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৯ সেকেন্ড পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৫১ সকাল

ভিভোর কিস্তির ফাঁদ: ০% ইন্টারেস্ট বললেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি ১০% টাকা!

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

সহজ কিস্তি, ০% সুদ বা ইন্টারেস্টের কথা গ্রাহক আকৃষ্ট করতে এমন প্রচারণার আড়ালে স্মার্টফোন কিনতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। চীনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ভিভো বাংলাদেশের কিস্তিতে ফোন বিক্রয়ব্যবস্থা নিয়ে এমন প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। ৯ মাসের কিস্তিতে স্মার্টফোন কিনতে গিয়ে নগদ মূল্যের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে গ্রাহককে। অথচ প্রচারণায় বলা হচ্ছে ‘০% ইন্টারেস্ট।’

রাজধানীর পুলিশ প্লাজায় ভিভো বাংলাদেশের একটি শো-রুমে গত সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) গিয়ে কিস্তি সুবিধার এমন চিত্র দেখা যায়। সেখানে ভিভো ভি ৮০ লাইটের ৮/১২৮ জিবি সংস্করণের নগদ মূল্য ৫৯ হাজার ৯৯৯ টাকা। ৩০ শতাংশ অগ্রিম দেয়ার পর বাকি থাকে ৩৮ হাজার ৩৯৯ টাকা। কিন্তু ৯ মাসের কিস্তিতে এই টাকা পরিশোধ করতে গেলে গ্রাহককে দিতে হচ্ছে আরও ৩ হাজার ৬০৪ টাকা। অর্থাৎ বাকি টাকার ওপর প্রায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়তি অর্থ।

একইভাবে ৮/২৫৬ জিবি সংস্করণের নগদ মূল্য ৬৯ হাজার ৯৯৯ টাকা। ৩০ শতাংশ অগ্রিম দেয়ার পর বাকি থাকে ৪৪ হাজার ৭৯৯ টাকা। কিস্তিতে এই অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে আরও ৩ হাজার ৮০০ টাকা দিতে হচ্ছে। দুই ক্ষেত্রেই প্রশ্ন উঠছে যদি এটি সুদ না হয়, তাহলে এই বাড়তি অর্থ কোন খাতে এবং কীসের ভিত্তিতে নেয়া হচ্ছে?

০% ইন্টারেস্ট, কিন্তু বাড়তি টাকা কেন?

ভিভো বাংলাদেশের দাবি, ‘০% ইন্টারেস্ট’ বলতে নির্দিষ্ট প্রচারণামূলক পরিকল্পনায় কোনো অতিরিক্ত সুদ না নেয়াকে বোঝায়। তবে কোনো সেবা বা প্রক্রিয়াকরণ ফি থাকলে সেটি সুদ নয়।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, কিস্তি চুক্তির আগে গ্রাহককে অগ্রিম, প্রযোজ্য চার্জ, মাসিক কিস্তি, মেয়াদ ও মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ জানানো হয়।

কিন্তু এখানেই তৈরি হচ্ছে বড় প্রশ্ন। একটি ফোনের নগদ মূল্যের তুলনায় কিস্তিতে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি অর্থ দিতে হলে সেই অর্থের সুনির্দিষ্ট নাম, হার ও হিসাব গ্রাহকের কাছে কতটা পরিষ্কার? ‘০% ইন্টারেস্ট’ বলার পাশাপাশি এমন বাড়তি অর্থ নেয়া হলে সেটি সাধারণ গ্রাহকের কাছে আলাদাভাবে স্পষ্ট করা হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি।

থার্ড পার্টির দায়, জানানো হয়নি কেন?

অভিযোগের জবাবে ভিভো এবার বলেছে, তারা নিজেরা কোনো হায়ার পারচেজ বা অর্থায়ন ব্যবসা পরিচালনা করে না। তৃতীয় পক্ষের হায়ার পারচেজ সলিউশন প্রদানকারীরা কিস্তি, অর্থায়নের শর্ত ও ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো পরিচালনা করে।

কিন্তু ভিভোর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ফটোকার্ড বিজ্ঞাপন ও গত (৬ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস রিলিজ থেকে তৃতীয় পক্ষের এই ভূমিকা আগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি বলে প্রশ্ন উঠেছে। যদি কিস্তির পুরো প্রক্রিয়াই তৃতীয় পক্ষ পরিচালনা করে, তাহলে ‘০% সুদ’ প্রচারণার সময় সেই প্রতিষ্ঠানের নাম, চার্জ কাঠামো এবং গ্রাহকের মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হলো না কেন?

১০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ কতটা যৌক্তিক?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বাড়তি ৩ হাজার ৬০৪ টাকা বা ৩ হাজার ৮০০ টাকা যদি সুদ না হয়ে ‘সার্ভিস’ কিংবা ‘প্রক্রিয়াকরণ’ বাবদ নেওয়া হয়, তাহলে সেই চার্জের হার কীভাবে নির্ধারিত? একটি স্মার্টফোনের কিস্তি সুবিধার জন্য প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি অর্থ নেওয়ার যৌক্তিকতা কী? এ অর্থের বিপরীতে গ্রাহককে কী সেবা দেওয়া হচ্ছে?

এদিকে ভিভো বলেছে, কিস্তির টাকা পরিশোধে দেরি হলে ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি তারা পরিচালনা করে না; এটি তৃতীয় পক্ষের কিস্তি ব্যবস্থাপনার অংশ। গ্রাহককে এ বিষয়ে আগে জানানো এবং সম্মতি নেওয়া হয় বলেও দাবি প্রতিষ্ঠানটির।

তবে গ্রাহকের নিজের কেনা ফোন কিস্তি বকেয়ার কারণে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ বা লক করার মতো ব্যবস্থার আইনগত ভিত্তি, শর্ত এবং তথ্যনিরাপত্তার বিষয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সব মিলিয়ে ‘০% সুদ’ প্রচারণা, প্রায় ১০ শতাংশ বাড়তি অর্থ এবং সেই অর্থের প্রকৃত হিসাব তিনটি বিষয় নিয়েই এখন স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি উঠেছে। সুদ না হলে বাড়তি টাকা কেন, আর বাড়তি টাকা হলে তার প্রকৃত খাত ও হার গ্রাহকের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না কেন এই প্রশ্নের উত্তর ভিভো ও সংশ্লিষ্ট কিস্তি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকেই দিতে হবে।

টেক বিশেষজ্ঞ সাইফ আহমেদের মতে, গ্রাহকের ব্যবহৃত ডিভাইস দূর থেকে নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ডিজিটাল গোপনীয়তা ও তথ্যনিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। তার মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা কী শর্তে, কোন আইনি ভিত্তিতে এবং গ্রাহকের সম্মতিতে করা হচ্ছে তা স্বচ্ছভাবে জানানো জরুরি।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন বলেন, ০% কিস্তির নামে হ্যান্ডসেট বিক্রির ক্ষেত্রে ভিভো প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে, যা গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণার শামিল।

রোহান/সা.এ.

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]