একতরফা আধিপত্য মোকাবিলায় ব্রিকস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় একতরফা আধিপত্য কমানোর পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বাড়ানোর অন্যতম সুযোগ হলো ব্রিকস।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তেহরান ছাড়ার আগে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। খবর মেহর নিউজ এজেন্সির।
পেজেশকিয়ান বলেন, বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য সংখ্যা ২১টি। এর মধ্যে ১১টি পূর্ণ সদস্য এবং ১০টি ‘ব্রিকস প্লাস’ সদস্য। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশের বেশি এবং বিশ্বের প্রায় ৩৫ শতাংশ ভূখণ্ড ব্রিকস সদস্যদের আওতাভুক্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ব্রিকসের মূল লক্ষ্য হলো একতরফা আধিপত্য মোকাবিলা করা। সদস্য দেশগুলো যাতে নিজেদের স্বাধীনতা বজায় রেখে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই জোটটি কাজ করছে।
ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যৌথ বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সহজ করতে ব্রিকস ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। দেশগুলো যাতে ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা ছাড়াই অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিকভাবে উন্নতি করতে পারে, সে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর কয়েকটি শক্তিশালী দেশের আধিপত্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন চিন্তা ও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে ব্রিকসকে আরও শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় একতরফা আধিপত্য কমানো সম্ভব।
পেজেশকিয়ান জানান, সম্মেলনে তিনি ব্রিকস নেতাদের মূল বৈঠক, অর্থনৈতিক ফোরাম এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা ও বহুপাক্ষিকতা শক্তিশালী করার বিষয়ে নেতাদের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেবেন।
এ ছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টসহ সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের নেতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তার।
ইরান ও ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ রয়েছে। সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণেরও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
ব্রিকস একতরফা আধিপত্যের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, এই লক্ষ্যেই জোটটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে উদ্ভাবন ও সহযোগিতা বাড়ানো গেলে ব্রিকস আরও শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় একতরফা আধিপত্য কমাতে ভূমিকা রাখবে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর