জাম্বিয়ার উত্তরাঞ্চলে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাবে বন্যপ্রাণীর মধ্যে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৪৬টি জলহস্তী, আটটি হাতি, পাঁচটি মহিষ এবং একটি কুমিরের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত প্রাণীর মাংস খাওয়ার পর অন্তত ১২ জন মানুষও অ্যানথ্রাক্সে সংক্রমিত হয়েছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জাম্বিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রশমন ইউনিটের জাতীয় সমন্বয়ক নরম্যান চিপাকুপাকু জানান, আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মুচিঙ্গা প্রদেশের এমপিকা জেলার মুনিয়ামাদজি গেম রিজার্ভ ও আশপাশের নদী এলাকায় রোগের বিস্তার রোধে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত ওই এলাকায় সাময়িকভাবে শিকার কার্যক্রম বন্ধ রাখারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগের বিস্তার ও ঝুঁকি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা না পাওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। একই সঙ্গে কোনো প্রাণীর অস্বাভাবিক বা রহস্যজনক মৃত্যু হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।
মৃত প্রাণীর দেহ যাতে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া বা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা না হয়, সেজন্য বন্যপ্রাণী পুলিশ ও বিভিন্ন চেকপয়েন্টে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
জনসাধারণকে স্বাভাবিকভাবে বা অজ্ঞাত কারণে মারা যাওয়া প্রাণীর মাংস না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি এমন প্রাণীর মৃতদেহের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতেও সতর্ক করা হয়েছে।
অ্যানথ্রাক্স একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ, যা বন্য ও গৃহপালিত প্রাণীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে আসা বা তাদের মাংস খাওয়ার মাধ্যমে মানুষের শরীরেও এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর