ময়মনসিংহে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ ও সার সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর/২৬) জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুর রহমান।
সভায় কমিটির উপদেষ্টা ও ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, মাদকমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। শুধু সভা, বৈঠক ও আলোচনা করে সমস্যার সমাধান হবে না; সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বিশেষ করে ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্য, মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে এর নেতিবাচক প্রভাব সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়বে। মাদকে জড়িত ব্যক্তিদের প্রভাব যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। মাদকবিরোধী স্বেচ্ছাসেবী কমিটিগুলোকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, সে বিষয়েও সতর্ক করতে হবে। মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে তথ্য দিলে কেউ যাতে হয়রানি, প্রতিশোধ বা মিথ্যা মামলার শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ ও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। তা না হলে মানুষ ভালো কাজে সহযোগিতা করতে নিরুৎসাহিত হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, একটি থানায় সীমিত সংখ্যক পুলিশ সদস্য দিয়ে কয়েক লাখ মানুষের ছোট-বড় সামাজিক অপরাধ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমাজের মানুষকে সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই। মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া, হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়াসহ কয়েকটি উপজেলায় সামাজিক কমিটি ও বিট পুলিশিং কার্যক্রম সক্রিয় করা হয়েছে। অন্য উপজেলাগুলোতেও এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
সার সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, কৃত্রিমভাবে সার সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে নজরদারি করতে হবে। কালোবাজারি ও অবৈধ মজুদের মাধ্যমে কেউ যেন কৃষকদের ভোগান্তিতে ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশরাফুল করিম, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ফখরুল হাসান চৌধুরীসহ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা, বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সরকারি দপ্তরের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর