রাজবাড়ীর কালুখালীতে তুচ্ছ ঘটনার জেরে বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে তিন নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে।
একই সাথে ঘটনার পর অভিযুক্তরা জামিনে মুক্ত হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে উল্টো মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আনোয়ারা খাতুন (৪০) বাদী হয়ে গত ২৬ আগষ্ট কালুখালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা হলেন- মুরারিখোলা গ্রামের রুপচাঁদ শেখের ছেলে আনোয়ার হোসেন বাপ্পী (১৮) ও স্ত্রী মোমেনা খাতুন (৩৫), মৃত ইনতা শেখের ছেলে তামেজ শেখ (৬০), ইনতার স্ত্রী বেগম (৫০) এবং ছনিয়া বেগম (২৮)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আসামীদের সঙ্গে বাদী আনোয়ারা খাতুনের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত ২৫ আগস্ট বিকেলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিবাদীরা অনধিকার চর্চা করে দেশীয় অস্ত্র, ধারালো দা, কাঁচি, বটি ও লোহার রড নিয়ে আনোয়ারার বসত বাড়িতে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।
গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে আনোয়ার হোসেন বাপ্পীর হুকুমে আক্রমণ করে আনোয়ারা খাতুনের বাম চোখের পাশে ধারালো কাঁচির কোপ লেগে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। মোমেনা খাতুন বটি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ মারলে আনোয়ারা তা হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন এবং তাঁর বাম হাতের কবজির নিচে কোপ লাগে।
আনোয়ারার ডাক চিৎকারে তাঁর ছেলের বউ আমেনা খাতুন (২৬) ও শাশুড়ি কাজল রেখা (৬০) উদ্ধারে এগিয়ে আসলে বটি দিয়ে আমেনা খাতুনের কপাল ও উভয় হাতে এবং কাজল রেখার দুই হাতে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি দিয়ে তাদেরকে বেধড়ক মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে।
পরে স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আমেনা খাতুন ও কাজল রেখার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
ভুক্তভোগী আনোয়ারা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, "হামলার পর আমরা থানায় ও রাজবাড়ী আদালতে মামলা করলে আসামীরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসে আমাদের নামে উল্টো সাজানো মিথ্যা মামলা দিয়েছে। বর্তমানে তারা আমাদেরকে খুন করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই জাকির হোসেন বলেন আসামীরা ৪ জন জামিনে রয়েছে তবে ১ নং আসামী জামিন পায়নি পালাতক রয়েছে তাকে গ্রেফতারে আমরা কাজ করছি।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর