মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের অ্যাডভোকেট লাউঞ্জের সামনে একদল আওয়ামীপন্থি আইনজীবী জড়ো হয়ে এই প্রতিবাদ জানান।
এ সময় তাদের কোনো স্লোগান দিতে শোনা যায়নি। তবে কয়েকজন আইনজীবীকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ উচ্চারণ করতে শোনা যায়।
এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পাঁচ আসামির ৫০ শতাংশ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে সরকারি অনুকূলে নেওয়া এবং তা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশনা, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। বিভিন্ন বৈঠকে আন্দোলন দমনে সহিংসতার পরিকল্পনা, সশস্ত্র হামলা ও দমন-পীড়নে তারা ভূমিকা রাখেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
গত ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী মামলায় সাক্ষ্য দেন।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন একই আদালত।
মামলায় হত্যাকাণ্ডের নির্দেশনা সংক্রান্ত ১৪টি ফোনকলের তথ্যও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এ ছাড়া বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
আইন ও আদালত এর সর্বশেষ খবর