‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত সাবেক এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমান নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সব সংবাদকে ‘শতভাগ ফেক’ বলে দাবি করেছেন। এসব সংবাদের পক্ষে প্রমাণ চাওয়া হলে তা দেওয়ার সক্ষমতাও তার রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় মতিউর রহমানকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব দাবি করেন।
মতিউর রহমান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যত নিউজ হয়েছে, শতভাগ ফেক। এই ফেক নিউজের রেজাল্ট কী আসে? প্রমাণ চাইলে শতভাগ প্রমাণ দিতে পারব। আমার আইনজীবীর কাছে সব প্রমাণ আছে।’
এদিকে মামলাটিতে সোমবার থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর কথা থাকলেও তা হয়নি। ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি. এম. তারিকুল কবীরের আদালতে মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন সাক্ষ্য দিতে উপস্থিত ছিলেন।
তবে মতিউর রহমানের আইনজীবী মো. বোরহান উদ্দিন সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি রাখার আবেদন করেন। অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে—এ কারণ দেখিয়ে তিনি সময় চান।
অন্যদিকে দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম এ আবেদনের বিরোধিতা করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত আগামী ১ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
এর আগে সকালে প্রিজনভ্যানে করে মতিউর রহমানকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানির সময় তাকে এজলাসে তোলা হয়।
গত ৩ আগস্ট মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এর আগে গত ৫ জুলাই অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ হয়েছিল।
দুদকের মামলায় মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্ত শেষে গত ৩ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করে দুদক। অভিযোগপত্রে বলা হয়, সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে মতিউর রহমান ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০২৪ সালের কোরবানির আগে ঢাকার মোহাম্মদপুরের সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ১৫ লাখ টাকা দামের একটি ছাগল কেনার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। মুশফিকুর রহমান ইফাত নামের এক তরুণের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে শুরু হওয়া ওই আলোচনায় ইফাতের সঙ্গে মতিউর রহমানের পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়টিও সামনে আসে। এরপর মতিউর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিপুল সম্পদের তথ্য নিয়ে শুরু হয় আলোচনা।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৪ জুন মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
দুদকের অনুসন্ধানে মতিউর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ৬৫ বিঘা জমি, আটটি ফ্ল্যাট, দুটি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট এবং তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব ও শেয়ারবাজারের বিও হিসাবও ক্রোক করা হয়।
পরে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
আইন ও আদালত এর সর্বশেষ খবর